বাংলাদেশে আটকে পড়াদের ফেরাতে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি পশ্চিমবঙ্গ

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২০, ১০:০৭ এএম

করোনার সময়ে বাংলাদেশে আটকে পড়া আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে ফেরাতে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার। টাইমস ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে এখনো আলোচনা করছে রাজ্য সরকার।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আটকে পড়া নাগরিকদের অধিকাংশ খুলনা এবং যশোর অঞ্চলে অবস্থান করছেন। পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে তারা বাংলাদেশে আছেন। এই দিনগুলোতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বাংলাদেশি নাগরিকদের স্থলসীমান্ত দিয়ে ফিরতে দিলেও নিজেদের কাউকে ফেরত নেয়নি!

আটকে পড়া ভারতীয়দের অভিযোগ, তারা প্রতিদিন নিজেদের হাইকমিশনে ফোন করলেও তেমন কোনো সাহায্য পাচ্ছেন না। শুধু বলা হচ্ছে, ‘অনুমতি আসেনি।’

পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার থেকে কয়েক সপ্তাহ আগেও ছয়টি বন্দর দিয়ে আটকে পড়া নাগরিকদের ফেরানোর আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু কর্মকর্তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষ ফ্লাইটে নাগরিকদের দিল্লি নিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে যারা আছেন, তারা সবাই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। অধিকাংশ আবার মধ্যবিত্ত। এতদিন বাংলাদেশে থেকে টাকাও শেষ হয়ে গেছে। তাদের পক্ষে বিমানে দিল্লি যাওয়া ‘সম্ভব নয়’।

নিজস্ব সূত্রের বরাত দিয়ে শনিবার টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, সবাইকে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে ফিরতে হলে কভিড-১৯ নেগেটিভ সার্টিফিকেট লাগবে।

এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ’৯৬ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা করানো নেগেটিভ সার্টিফিকেট থাকলে তবেই তারা ফিরতে পারবেন। একই সঙ্গে হাইকমিশনের ছাড়পত্র লাগবে। অনলাইনে আবেদন করে এটি পাওয়া যাবে।’

টালিউডের সুপারস্টার দেব কয়েক দিন ধরে বলছেন, আটকে পড়াদের ফেরাতে তিনি চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি স্থানীয় এক সাংবাদিকের ফেইসবুক লাইভে এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি হিসাব করে দেখেছি সবাইকে বিমানে আনতে গেলে আমার কোটি টাকা খরচ হয়ে যাবে। এই মুহূর্তে তো আমার কাছে এত টাকা নেই। তাই চেষ্টা করছি বাসে করে সবাইকে আনা যায় কি না। আমি আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করছি।’

পার্থ পাল চৌধুরী নামের এক ভারতীয় নাগরিক প্রায় ৬ থেকে ৭ মাস বাংলাদেশে আটকা পড়েছেন। এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার থেকে বিশেষ ফ্লাইটে দিল্লি নেয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা পশ্চিমবঙ্গের যারা আছি, তাদের জন্য দিল্লি যাওয়া বেশি ঝুঁকির। অনেক মধ্যবিত্ত এখানে আটকা পড়েছেন। বিমানে দিল্লি যাওয়ার সামর্থ্য তাদের নেই। আমরা স্থলবন্দর দিয়ে ফিরতে চাই। এখন পর্যন্ত কয়েক শ বার যোগাযোগ করলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার গড়িমসি ভাব দেখাচ্ছে।’

পার্থ জানান, তাদের মধ্যে অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এখন সাধারণভাবে চলার মতো অর্থও নেই আটকে পড়া অধিকাংশ মানুষের কাছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত