স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীরের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।
এক শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন প্রতিমন্ত্রী।
মুর্তজা বশীর শনিবার সকাল ৯টা ১০মিনিটের দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি করোনা পজিটিভ ছিলেন। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্রোগ, ফুসফুস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন।
শোকবার্তায় কে এম খালিদ জানান, উপমহাদেশের প্রখ্যাত ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর ছেলে মুর্তজা বশীর ছোটবেলা থেকে স্বীয় কর্ম ও গুণে পরিচিত হতে চেয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশে বিমূর্ত ধারার চিত্রকলার অন্যতম পথিকৃৎ। মুর্তজা বশীর পেইন্টিং ছাড়াও ম্যুরাল, ছাপচিত্রসহ চিত্রকলার বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করেছেন। শুধু রং তুলি নয়, এমনকি সাহিত্য ও চলচ্চিত্র অঙ্গনেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মুর্তজা বশীর জীবন ও কর্মের মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে আলোকিত করেছেন। তার মৃত্যু দেশের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি তার কর্মের মধ্য দিয়ে শিল্প-সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের মাঝে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।
করোনা উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি হন খ্যাতিমান এই চিত্রশিল্পী। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
স্বাস্থ্যবিধির কাগজপত্র হাতে পেলেই শনিবার মুর্তজা বশীরকে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
মুর্তজা বশীর ১৯৩২ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকার রমনায় জন্মগ্রহণ করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।
বাংলাদেশে বিমূর্ত বাস্তবতার চিত্রকলার অন্যতম পথিকৃৎ মুর্তজা বশীরের ‘দেয়াল’, ‘শহীদ শিরোনাম’, ‘পাখা’ ছাড়াও বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য চিত্রমালা রয়েছে।
চিত্রকলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৮০ সালে একুশে পদক পান মুর্তজা বশীর আর স্বাধীনতা পুরস্কার পান ২০১৯ সালে।
