টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ঢাকা ও মানিকগঞ্জের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিকল্প রাস্তা মির্জাপুর-উয়ার্শী-বালিয়া সড়কে রোয়াইল ব্রিজের সংযোগ সড়ক ধসে পড়ে গত চার দিন ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী বন্যা ও ভারী যানবাহন চলার কারণে এই সড়কে অসংখ্য খানাখন্দকের সৃষ্টি হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে সড়কটি।
এই সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। ৩/৪ দিনের মধ্যে যান চলাচলের আশা করছে স্থানীয় সড়ক বিভাগ।
উপজেলার দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির ফসল মির্জাপুর-উয়ার্শী-বালিয়া আঞ্চলিক সড়কটি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিশ্রুতির ৪৩ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় এমপি মো. একাব্বর হোসেনের প্রচেষ্টায় ২০১৭ সালে সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হয়।
এর ফলে উপজেলার দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হয়। যানজট প্রবণ ঢাক-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিকল্প সড়ক হিসেবেও এই সড়কটি ব্যবহৃত হতে থাকে। ঢাকা ও মানিকগঞ্জের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিকল্প এই সড়কটি।
সড়কটি উদ্বোধনের নয় মাসের মাথায় নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।
পরবর্তীতে, ২০১৮ সালের ২০ মার্চ সরেজমিনে সড়কটি পরিদর্শন করে গিয়েছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় গঠিত একটি তদন্ত দল। সেই সময় ওই সংসদীয় তদন্ত কমিটি অনিয়মের সত্যতা পান। তারপরও সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়নি। ভারী যানবাহন চলার ফলে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে দেবে যাওয়াসহ খানাখন্দকের সৃষ্টি হতে থাকে।
এ বছর দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় মির্জাপুরের এই সড়কটির অন্তত ১৫/২০টি পয়েন্টে পানিতে নিমজ্জিত হয়। পানির প্রবল স্রোতে সড়কের পুষ্টকামুরী, রাজনগর, ঘুগি, রোয়াইল অংশসহ বিভিন্ন অংশে ভাঙন ধরে। বন্যার পানি কমার ফলে সড়কে ভাঙনের ক্ষত চিহ্ন দেখা দেয়। অসংখ্য খানাখন্দকের মধ্য দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল শুরু হয় জন যানের। দুর্ভোগ বাড়তে থাকে এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষের। সড়ক পথে চলতে গিয়ে মানুষ এখন বিকল্প হিসেবে নৌকা ব্যবহার করছে। এতে সময় লাগছে বেশি এবং লাগছে বাড়তি টাকাও।
বৃহস্পতিবার সকালে সড়কটির রোয়াইল বাজার সংলগ্ন খালের ওপর নির্মিত একটি ব্রিজের সংযোগ সড়কে ফাটল দেখা দেয় বলে এলাকাবাসী জানায়। পরে এক দিনের মধ্যে সংযোগ সড়কটি ধসে পানিতে মিশে যায়। ব্রিজের নিচ দিয়ে প্রবাহিত পানির প্রবল স্রোতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ব্রিজটি। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষের ভোগান্তি। পায়ে হেঁটে, অটোরিকশায়, নৌকায় এবং ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলে কয়েকগুণ বেশি টাকা দিয়ে মানুষ যাতায়াত করছে। যানবাহনগুলোও চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে তবু মানুষের চলাচল থেমে নেই।
রোয়াইল গ্রামের সানোয়ার হোসেন বলেন, বন্যার সময় ২৫/৩০টি গ্রামের পানি এই খান দিয়ে নিষ্কাশন হয়ে থাকে। ব্রিজটি নির্মাণের সময় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল আরও দীর্ঘ করতে। তাদের কথা রাখলে এখন এ অবস্থা হতো না। তা ছাড়া সড়কটির নির্মাণকাজও ছিল নিম্নমানের।
রোয়াইল গ্রামের জসিম উদ্দিন বলেন, সড়কের নিম্নমানের কাজ এবং অপরিকল্পিত ব্রিজ। যে কারণে পানির স্রোতেই ধসে গেল সংযোগ সড়ক।
ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালক আশিষ, রুবেল, মজিবর, সনজিত, মুক্তার, সবির বলেন, রাস্তাটি ভাঙনের ফলে চলাচলে খুবই কষ্ট। আমাদের আয়ের পথ এখন বন্ধই হয়ে গেছে।
এদিকে ব্রিজের সংযোগ সড়ক ধসে এবং অসংখ্য খানাখন্দকের কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পেয়ে শুক্রবার এই সড়ক পরিদর্শনে আসেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মঈনুল হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। তারা দ্রুত সময়ে সড়কটি সংস্কারের নির্দেশ দেন।
শনিবার বিকেল থেকেই ঢাকা- টাঙ্গাইল মহাসড়কের (পুরাতন) সংযোগস্থল থেকে সড়কটি সংস্কার কাজ শুরু হয়। সড়কের অসংখ্য খানাখন্দ সংস্কার করে যান চলাচলের উপযোগী করে রোয়াইল ব্রিজের সংযোগ সড়ক সংস্কার করা হবে।
আগামী ৩/৪ দিনের মধ্যে সংস্কার কাজ শেষ করে সড়কটিতে যান চলাচলের উপযোগী হওয়ার আশা করছেন স্থানীয় সড়ক বিভাগ।
স্থানীয় সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. এনামুল কবির বলেন, সড়কটি নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর থেকে ভারী যানবাহন নিয়মিত চলতে থাকে। যা সড়কের জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কারণে পানির প্রবল স্রোতে রোয়াইল ব্রিজের সংযোগ সড়ক ধসে পড়ে। ইতিমধ্যে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ৩/৪ দিনের মধ্যে এই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং বন্যার পরে পুনরায় সংস্কার কাজ শুরু হবে বলে তিনি বলেন।
