ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি আত্রাজেনেকা ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ প্রচেষ্টার করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন শেষ পর্যন্ত কার্যকরী প্রমাণ হলে তা পুরো দেশবাসীকে বিনা মূল্যে দেওয়ার কথা ভাবছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ভ্যাকসিন আবিষ্কারে সবার আগে সাফল্য দেখিয়েছে রাশিয়া। কিন্তু দেশটির উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে অনেক দেশ ও বিশেষজ্ঞরা।
রাশিয়া ছাড়া করোনার ভ্যাকসিন উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় অনেকটাই এগিয়ে আত্রাজেনেকা ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচেষ্টাটি। অস্ট্রেলিয়া এই ভ্যাকসিনটির ওপরই আস্থা রাখছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন জানিয়েছেন, ভ্যাকসিনটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলো সফল হলে যত দ্রুত সম্ভব অস্ট্রেলিয়ার সবাই যাতে এটা পায় সে জন্য আত্রাজেনেকার সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় দেশটির আড়াই কোটি মানুষকে বিনা মূল্যে করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।
মরিসন জানিয়েছেন, ভ্যাকসিন পাওয়া গেলে তা নেওয়া অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।
করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত যে কয়টা দেশ সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া এর অন্যতম। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ২৪ হাজার ছুঁই ছুঁই। এর মৃত্যু হয়েছে ৪৫০ জনের।
বর্তমানে দেশটিতে দ্বিতীয় ধাপের সংক্রমণ চলছে। নতুন আক্রান্তদের অধিকাংশই ভিক্টোরিয়া রাজ্যের। চলতি মাসের শুরুতে মেলবোর্নসহ গোটা ভিক্টোরিয়ায় কঠোর লকডাউন আরোপ করা হয়; রাজ্যটিতে ‘দুর্যোগের রাজ্য’ বলে উল্লেখ করা হয়।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসাধীন করোনারোগী আছে ৭ হাজারের বেশি। অবশ্য গত এক সপ্তাহ ধরে সংক্রমণের সংখ্যা অনেকটাই কমতির দিকে।
করোনার ভ্যাকসিনের মধ্যে যে পাঁচটি প্রচেষ্টা অনেক দূর এগিয়েছে এর মধ্যে আত্রাজেনেকা-অক্সফোর্ড ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের উচ্চ ধাপে রয়েছে। ভ্যাকসিনটি পেতে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে এরই মধ্যে চুক্তি করে রেখেছে অনেক দেশ।
এই ভ্যাকসিনের দিকে তাকিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী মরিসনও। গণহারে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে তিনি বলেন, “এই ভ্যাকসিন যদি সফল প্রমাণিত হয়, তাহলে আমরা সরাসরি আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এটি উৎপাদন করব এবং আড়াই কোটি অস্ট্রেলিয়ানের জন্য বিনা মূল্যে সরবরাহ করব।”
