চিঠি চালাচালিতে অর্ধযুগ পার

বাহুবলে নির্মাণের ৬ বছরেও চালু হয়নি ট্রমা সেন্টার

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২০, ১২:৫৮ এএম

ভবন নির্মাণের ৬ বছর পার হলেও বাহুবল উপজেলায় ট্রমা সেন্টারটি আজও চালু হয়নি। গণপূর্ত বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগের মধ্যে চিঠি চালাচালি ছাড়া কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ভবনটি জনগণের কোনো উপকারে আসছে না। কবে নাগাদ চালু হতে পারে কেউ জানে না।

মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০১০ সালে ফিজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায়  ট্রমা সেন্টার নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। দেশের ৬টি স্থানের মধ্যে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও বাহুবল হাসপাতালের পাশে ১০ শয্যার ট্রমা সেন্টারের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এতে ব্যয় হয় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। তিনতলা এই ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ২০১২ সালের ৩০ অক্টোবর। কিন্তু ২০১৩ সালের শেষ দিকে তা সমাপ্ত হয়। ২০১৪ সালে জানুয়ারি মাসে গণপূর্ত বিভাগ স্বাস্থ্য বিভাগকে ভবনটি গ্রহণের জন্য চিঠি দেয়। কিন্তু গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ ভবনটি গ্রহণ করেনি। এ নিয়ে দু’বিভাগের চিঠি চালাচালিতেই কেটে গেছে ৬ বছর। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেই গণপূর্ত বিভাগ একটু সরব হয়। কিছুদিন পর তা আবার ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২২ মার্চ হবিগঞ্জ পল্লী সমিতি বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ৪৭ হাজার ১২০ টাকা পরিশোধের জন্য ডিমান্ড নোট পাঠায়। গণপূর্ত বিভাগের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের অগ্রগতি রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পল্লীবিদ্যুতের ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ২৬ মে ২০১৪ ও ২৯ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে দুইবার তাগিদপত্র দেওয়া হয়। কিন্তু পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি অতিরিক্ত ৬ লাখ টাকা দাবি করায় হবিগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো ছাড়া আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এদিকে, ২০১৩ সালের ২৩ জুন গ্যাস সংযোগের জন্য ডিমান্ড নোট চেয়ে তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী জালালাবাদ গ্যাস কোম্পানিকে চিঠি দেন। এরপর এ সংক্রান্ত কোনো খোঁজখবর না রাখায় ইতিমধ্যে সরকার সারা দেশে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়। ফলে  ট্রমা সেন্টারে গ্যাস সংযোগ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

অপরদিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বিভিন্ন আসবাবপত্র অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় এগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রুত ট্রমা সেন্টার চালুর দাবি জানিয়েছেন উপজেলায় কর্মরত চিকিৎসকরা ও স্থানীয়রা। ট্রমা সেন্টারটি চালু না হওয়ায় মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহতদের ঢাকা ও সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে।     

হবিগঞ্জের ডেপুটি সিভিল ডা. মুখলেছুর রহমান উজ্জ্বল দেশ রূপান্তরকে বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় ভবনটি গ্রহণ করা যাচ্ছে না।

হবিগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বদলি হওয়ায় মৌলভীবাজার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মমিনুল হক অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, একদিন মাত্র হবিগঞ্জে অফিস করেছি। বাহুবল ট্রমা সেন্টার সম্পর্কে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত