বৈরুতের বিধ্বস্ত মসজিদ মেরামত করবে তুরস্ক

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২০, ০১:০৮ এএম

বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হওয়া বৈরুতের মুসলিমদের মসজিদ ও খ্রিস্টানদের গির্জা মেরামত করবে তুরস্ক। আল জাজিরায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমনটা জানা গেছে।

বৈরুতে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত হাকান শাকাল বিধ্বস্ত মুহাম্মাদ আমিন মসজিদ ও সেন্ট জর্জ ক্যাথেড্রাল পরিদর্শন করে বলেন, ‘তুরস্কের সরকার লেবাননের মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মের নেতাদের বিধ্বস্ত মসজিদ ও গির্জা পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছে।

গত ৪ আগস্ট বৈরুত বন্দরে বিস্ফোরণে মসজিদ ও গির্জার স্থাপনাটি মারাত্মকভাবে বিধ্বস্ত হয়। ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় স্থাপনা দুটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেয় তুরস্ক। এ ছাড়া বৈরুতে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে আঙ্কারার রাষ্ট্রদূত হাকান শাকাল তুরস্কের আন্তর্জাতিক সেবা সংস্থা তার্কিশ রেড ক্রিসেন্টের সঙ্গে কাজ করছেন।

বিধ্বস্ত মসজিদটি ১৮১৯ সালে শায়খ মুহাম্মাদ আবু নাসরের খানকা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ধর্মীয় ক্ষেত্রে বিশেষ সম্মাননা হিসেবে তাকে ওসমানীয় সুলতান আবদুল মাজিদ এক খণ্ড জমি দেন। পরে শায়খ খানকাটি ছোট্ট মসজিদে রূপান্তর করে রাসুল (সা.)-এর নামানুসারে ‘মুহাম্মাদ আল-আমিন’ নাম দেন। ২০০২ সালে মসজিদটিকে অত্যাধুনিকভাবে নির্মাণ করা হয়। মসজিদের হলুদ পাথর, নীলাভ গম্বুজ, সুউচ্চ মিনার ও অনন্য স্থাপত্য দর্শকদের মুগ্ধ করে।

১৮৮৪ সালে বিশপ ইউসুফ আল দাবস সেন্ট জর্জ ক্যাথেড্রালটি নির্মাণ করেন। বৈরুতের মধ্যভাগে মুহাম্মাদ আল-আমিন মসজিদের পাশেই ক্যাথেড্রালটি অবস্থিত।

লেবাননে ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন বৈরুতের শহীদ প্রাঙ্গণের পাশে অবস্থিত মুহাম্মাদ আল-আমিন মসজিদ ও সেন্ট জর্জের মেরোনাইট ক্যাথেড্রাল। মুসলিমদের মসজিদ ও খ্রিস্টানদের প্রার্থনাস্থলের পাশাপাশি অবস্থান উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতিবোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। বৈরুতের ইতিহাসকেও সমৃদ্ধ করেছে।

উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট রাতে বৈরুত বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। এতে প্রায় ১৭৭ জন নিহত এবং ছয় হাজারের বেশি আহত হন। তা ছাড়া অনেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। লেবানন নিরাপত্তা বাহিনীর বর্ণনা মতে, ৩ হাজার ৯৭২টি স্থাপনা এবং ৪ হাজার ২১৪টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইউনেসকোর তথ্য মতে, বিস্ফোরণে ৬৪০টি ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ৬০টির বেশি বিধ্বস্ত হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত