দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা হাকিমপুরে দিন দিন বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।
এমন অবস্থায় করোনার সংক্রমণ রোধে পথচারীদের হাত ধোয়ার জন্য উপজেলা সদরের ৩টি স্থানে বেসিন স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু এই তিনটির মধ্যে একটিতে নেই পানি ও অপরটিতে নেই সাবান।
এতে করে হাসপাতালসহ উপজেলা পরিষদে প্রবেশের সময় সাধারণ মানুষ হাত না ধুয়েই প্রবেশ করছেন ওইসব স্থানে। এতে করে করোনা সংক্রমণের হার বাড়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে উপজেলা পরিষদ চত্বর ও পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে পথচারীদের হাত ধোয়ার জন্য স্থাপন করা হয়েছে ৩টি বেসিন। যার প্রতিটি স্থাপনে ব্যয় করা হয়েছে ২২ হাজার টাকা।
সরেজমিন গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুদিন গিয়ে দেখা গেছে হাসপাতাল, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্থাপিত বেসিনগুলোর মধ্যে হাসপাতালে স্থাপিত বেসিনে নেই সাবান, অপরদিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্থাপিত বেসিনে নেই পানি, অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে এসব ব্যবহার করা হয়নি।
শুধুমাত্র পৌরসভার সামনে স্থাপিত বেসিনটি সচল রয়েছে।
এদিকে হাকিমপুরে করোনায় আক্রান্ত শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪ জনে, ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫০ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন একজন।
হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রবেশ পথে হাত না ধুয়ে কেন প্রবেশ করছেন আব্দুল করিম নামের একজনকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, হাসপাতালের সামনে যে মানুষের হাত ধোয়ার জন্য বেসিন লাগানো হয়েছে তা লাগানো পর্যন্তই শেষ। লাগানোর প্রথমদিকে সবকিছু সচল থাকলেও এরপরে তার আর কোনো গুরুত্ব নেই। সেখানে যে হাত ধুবো তাতে তো সাবান নেই তাতে করে হাত ধুবো কীভাবে। তাই হাত না ধুয়েই প্রবেশ করছি।
উপজেলা পরিষদ চত্বরে আব্দুর রহিম বলেন, উপজেলা পরিষদ চত্বরে সাধারণ মানুষের হাত ধোয়ার জন্য বেসিন স্থাপন করা হয়েছে কিন্তু আজ বেশ কিছুদিন ধরে সেই বেসিনে কোনো পানির ব্যবস্থা নেই। যার কারণে মানুষ হাত ধুতে চাইলেও বা হাত ধোয়ার কথা বলা হলেও মানুষজন হাত ধুতে পারছে না।
হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তৌহিদ আল হাসান বলেন, হাসপাতালের সামনে স্থাপিত বেসিনে প্রথমদিকে সাবান দিয়েছিলাম কিন্তু সেখানে সাবান থাকে না। তারপরে সেখানে নেট দিয়ে সাবান বেঁধে দেওয়া হয়েছিল এরপরেও কিভাবে হারিয়ে গেল বিষয়টি দেখা হচ্ছে। আর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া লাগবে এটি সবাই জানে কিন্তু এটি করতে বাধ্য করা তো যায় না। মানুষ নিজে থেকে যদি সচেতন না হয় তাহলে এটি করা অসম্ভব।
হাকিমপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ বলেন, সাধারণ মানুষের হাত ধোয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা পরিষদ চত্বর ও পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে ৩টি হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপন করেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। বেসিনগুলোতে পানির ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট যেখানে স্থাপন করা হয়েছে সেখান থেকে পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর সাবানের ব্যবস্থা আমাদের পক্ষ থেকে করা হয়েছে।
বর্তমানে যেগুলোতে সাবান নেই সেগুলোতে সাবানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর উপজেলা পরিষদে স্থাপিত বেসিনে পানি নেই বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
