অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার আসামি বরখাস্ত ওসি প্রদীপ দাশের সাক্ষাৎ পায়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি। তাই তৃতীয়বারের মতো সময়ের আবেদন করেছে কমিটি।
রবিবার সন্ধ্যায় তদন্ত কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমান।
মিজানুর রহমান বলেন, ‘মেজর সিনহা নিহতের ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম আমরা নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পেরেছিলাম। গত ১৯ আগস্ট ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নির্ধারিত তারিখও ছিল। কিন্তু আদালতের নির্দেশক্রমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের হেফাজতে নিয়ে যান। সেই থেকে আমরা চেষ্টা করে আসছি প্রদীপের সঙ্গে সাক্ষাতের। কিন্তু সম্ভব হয়নি। বিষয়টি দু’বার আমরা আদালতকে জানিয়েছি’।
তিনি আরো বলেন, ২৭ আগস্টও আমরা একটি আবেদন করেছিলাম, আদালত সেটি নথিভুক্ত করেছে। সোমবার আমাদের বর্ধিত সময়সীমা শেষ হয়ে যাচ্ছে। একইভাবে ওসি প্রদীপেরও রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হচ্ছে। তাই আমরা সভা করে আরো সময়ের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। মন্ত্রণালয় থেকে যদি আমাদের সময় বৃদ্ধি করে দেয়, তাহলে ১ সেপ্টেম্বর ওসি প্রদীপের সাক্ষাৎ পাব।
এর আগে রবিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কক্সবাজার হিল ডাউন সার্কিট হাউসে জরুরি সভা করে তদন্ত কমিটি।
৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি ও রামু থানায় একটি মামলা করে। মামলায় এ পর্যন্ত সাত পুলিশ সদস্য, এপিবিএনের তিন সদস্য ও টেকনাফ পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
এর মধ্যে এপিবিএনের তিন পুলিশ সদস্য পৃথকভাবে বুধ ও বৃহস্পতিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। যার কারণে এ তিন পুলিশ সদস্য কারাগারে রয়েছেন।
