খেমার রুজ টর্চার সেলের প্রধানের মৃত্যু

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:১৪ এএম

কম্বোডিয়ার গণহত্যা চালানো নিষিদ্ধ খেমার রুজদের টর্চার সেলের সাবেক প্রধান জিজ্ঞাসাবাদক ও টর্চার সেলের প্রধান কাইং গুয়েক ইয়াভ ওরফে মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার নমপেনের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে বার্তা সংস্থা এএফপি ও বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।

‘খেমার রুজ’ ছিল কম্বোডিয়ায় কম্পুচিয়ার কম্যুনিস্ট পার্টির অনুসারীদেরকে প্রদেয় নাম। কম্বোডিয়ার স্ট্যালিনবাদী ও মাওবাদী দলটি ১৯৬৮ সালে উত্তর ভিয়েতনামে ভিয়েতনাম পিপলস আর্মি’র  শাখা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।

১৯৭৫ সাল কম্বোডিয়ার ক্ষমতায় আসে গেরিলা এই বাহিনী। ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত কম্বোডিয়ার শাসন কাজ চালানোর সময় জাতিগত সুদ্ধিতার নামে গণহত্যা চালায় খেমার রুজ বাহিনী।

আর এই বাহিনীর টর্চার সেলের বন্দিদের প্রধান ইন্টারোগেটর ও টর্চার সেলের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন  এক সময় গণিতের শিক্ষক কাইং গুয়েক ইয়াভ। ডুচ নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন তিনি। তৎকালীন কম্বোডিয়ার খেমার রুজ সরকারের কুখ্যাত তুয়োল স্লেং কারাগারের প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন ডুচ।

খেমার রুজ শাসনের পতন হলে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালানোর অভিযোগে জাতিসংঘের যুদ্ধ বিষয়ক ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরুধী অপরাধে অভিযুক্ত হন ডুচ। আজীবনের জন্য কারাবাসে ছিলেন তিনি।

ট্রাইব্যুনালের এক মুখপাত্র নেথ পিকত্রা জানিয়েছেন, অসুস্থ হয়ে সোমবার থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ডুচ। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। একটি সূত্র জানিয়েছে, ফুসফুস সংক্রান্ত জটিলতার জন্য কয়েক বছর ধরে হাসপাতালে আসা যাওয়ার মধ্যে ছিলেন তিনি।

টর্চার সেলে তার হাতে মৃত্যু হয়েছে হাজার হাজার পুরুষ, নারী ও শিশুর। তৎকালীন নমপেনের তুয়োল স্লেং স্কুলের বন্দিশিবির থেকে ডুচের নির্দেশে তুলে নিয়ে অন্তত ১৫ হাজার মানুষকে পার্শ্ববর্তী কিলিং ফিল্ডে হত্যা করা হয় বলে দাবি করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত