একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এবং তার ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার হেনরি কিসিঞ্জারের বাংলাদেশ বিরোধিতার বিষয়ে নতুন তথ্য দিয়েছেন প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক গ্যারি জোনাথন বাস। বিখ্যাত গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসে লেখা কলামে তিনি জানিয়েছেন, দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক নীতি প্রণয়নে এই দুই কর্মকর্তা ভারতীয় তথা এশিয়ান নারীদের প্রতি ‘ঘৃণা, যৌন অনাগ্রহ এবং বর্ণবাদী বিদ্বেষ’ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।
বাংলাদেশের প্রতি মার্কিন কর্মকর্তাদের ওই সময়কার মনোভাবের বিষয় প্রকাশ করতে জোনাথন বাস অনেক আগে থেকেই কাজ শুরু করেন। নিজের লেখা ‘দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম’ বইয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দিয়েছেন। এই বইটি ২০১৩ সালে প্রকাশিত হয়।
জোনাথন জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউজের রেকর্ডিং টেপ থেকে বইয়ের অনেক তথ্য তিনি জোগাড় করেছেন।
জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের পর বর্ণবাদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক আলোচনা হচ্ছে। জোনাথন বাস তার কলামে বলেছেন, মার্কিনিদের এমন আচরণ নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশের প্রতি নিক্সনের আচরণের বর্ণনা দিতে গিয়ে গোটা বিষয়টাকে ‘প্রেসিডেনসিয়াল রেসিজম’ বলে মন্তব্য করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত সোভিয়েত ইউনিয়নের দিকে ঝুঁকে পড়ে। পাকিস্তান পায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন।
গ্যারি জোনাথন তার কলামে জানিয়েছেন, হাজার-হাজার বাংলাদেশিকে হত্যার বিষয়ে পাকিস্তানকে সমর্থন করেন নিক্সন এবং কিসিঞ্জার। এ বিষয়ে অবশ্য আগেও অনেক লেখালেখি হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের ওই মতামতে হোয়াইট হাউজ থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু টেপের উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে। যেখানে প্রেসিডেন্ট নিক্সন ভারতীয় নারীদের প্রতি তার মনোভাবের কুৎসিত বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।
১৯৭১’র জুন মাসে নিক্সন, কিসিঞ্জার এবং হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ এইচ.আর. হালাডম্যানের একটি কথোপকথনের কথা বলা হয়েছে। নিক্সনকে এভাবে সেদিন কথা বলতে শোনা যায়, ‘ভারতীয় নারীরাই বিশ্বের সবচেয়ে অনাকর্ষণীয়, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
‘এতে এতটুকু সন্দেহ নেই,’ বিষাক্ত সুরে এভাবে আবার মন্তব্য করে বলেন, ‘ওরা সবচেয়ে যৌনহীন, কিছুই নেই।’
‘মানুষ কালো আফ্রিকানদের কথা বলে। ভালো, তাদের কিছুটা হলেও প্রাণশক্তি আছে, মানে অল্পস্বল্প প্রাণীর মতো মজা। কিন্তু হায়, ওরা ইয়্যাক, উফফফ!’
