নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় উদ্ধার হওয়া বাক্সবন্দী অর্ধগলিত মরদেহটি ১২ বছরের শিশু জিহাদের। জিহাদ দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলা শহরের জিয়াউর রহমানের ছেলে।
ঘটনার এক মাস ২৩ দিন পর মঙ্গলবার বিকেলে তার পরিচয় ও হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন করার কথা জানায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) রংপুর।
পিবিআই জানায়, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় গত ১৪ জুলাই ঘুমন্ত জিহাদকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে গরম পানি ঢেলে শরীর ঝলসে দিয়ে মরদেহ বাক্সে বন্দী করে একটি পিকআপ ভাড়া করে ১৫ জুলাই রাতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডোমার-ডিমলা সড়কে বালাপাড়া ইউনিয়নের রামডাঙ্গা ফরেস্ট এলাকায় ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা জিয়াউর রহমান (৩৫), তার সৎ মা আলেয়া মণি (১৯), জিহাদের সৎ নানা আইয়ুব আলীকে (৫৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি মরদেহ বহনের পিকআপটি (ঢাকা মেট্রো ন-১১-৯৬০৭) আটক করে মালিক ও চালক ইসমাইল হোসেনকেও (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, শিশু জিহাদের সঙ্গে সৎ মা আলেয়া মণি এবং তার বাবা জিয়াউর রহমানের বনিবনা না হওয়ায় তারা একত্রে পরিকল্পিতভাবে গত ১৪ জুলাই রাতে ঘুমন্ত জিহাদকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরদিন সকালে হত্যার ঘটনা গোপন করতে তার বাসায় ব্যবহৃত একটি স্টিলের ট্রাংকে বাবা জিয়াউর রহমান, সৎ মা আলেয়া মণি ও নানা আইয়ুব আলী একটি বেডশিট ও কাঁথায় শিশু জিহাদের মরদেহ পেঁচিয়ে ট্রাংকের ভেতরে ঢুকিয়ে রাখে। আইয়ুব আলী পার্শ্ববর্তী মীম ভ্যারাইটিজ স্টোর হতে দুইটি চাইনিজ তালা কিনে ট্রাংকটি তালাবদ্ধ করে। এরপর রাতে মরদেহ ভর্তি ট্রাংকটি অপসারণের জন্য বিরল হাসপাতালের গেটের সামনে হতে একটি নীল রঙের ছোট পিকআপ ভ্যান ১৩ হাজার টাকায় ভাড়া করে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় ফেলে আসে।
গত সোমবার রাতে বিরল উপজেলা শহরের ভাড়া বাসার তৃতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে শিশু জিহাদের বাবা, সৎ মা এবং নানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ওই ভাড়া বাড়ি থেকে একটি ইলেকট্রিক ওয়াটার হিটার জব্দ করা হয়। জিহাদকে হত্যার পর যার মাধ্যমে পানি গরম করে মৃতদেহে ঢেলে দেওয়া হয়েছিল।
ডিমলা থানা-পুলিশ জানায়, গত ১৬ জুলাই ওই মরদেহ উদ্ধারের পর থানায় মামলা দায়ের করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। বাক্সের ভেতরে মরদেহের সঙ্গে ২০১৯ সালের কিছু চিকিৎসাপত্রের কাগজ পাওয়া যায়। তাতে বিস্তারিত লেখা না থাকলেও দিনাজপুরের ঠিকানায় জিয়াউর রহমান নাম উল্লেখ ছিল। পরবর্তীতে ২০ জুলাই মামলাটির তদন্তভার রংপুর পিবিআই গ্রহণ করে।
মুঠোফোনে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের কথা স্বীকার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) রংপুরের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছে পিবিআইর কাছে। আসামিদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের জন্য বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হচ্ছে।
