সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামের একটি মসজিদ ভবনের ওপর বিদ্যুতের ৩৩ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন লাইন থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। গত তিন বছর ধরে বিদ্যুতের এই ঝুঁকিপূর্ণ লাইন ও মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো ফল হয়নি। উপরন্তু এটি সরাতে গেলে টাকা চেয়ে চিঠি দিয়েছে পল্লীবিদ্যুৎ অফিস।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, গ্রামের মসজিদের জমির ওপর দিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে পল্লীবিদ্যুতের ৩৩ কেভির একটি লাইন দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার এলাকায় গেছে। তিন বছর আগে মসজিদের পাকা ভবন নির্মাণের সময় ওই লাইন এবং মসজিদের সীমানার ভেতরে থাকা বিদ্যুতের একটি খুঁটি সরানোর জন্য পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়। পরে মসজিদ কমিটিকে পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানায়, এই স্থান থেকে বিদ্যুতের খুঁটি সরানো ও লাইন পরিবর্তন করতে হলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৫১ হাজার ৩৮৭ টাকা জমা দিতে হবে। কিন্তু মসজিদের তহবিলে এত টাকা না থাকায় গ্রামবাসী এই টাকা দিতে পারেননি। যে কারণে ঝুঁকিপূর্ণ লাইনটি এখনো রয়ে গেছে।
মসজিদ কমিটির সভাপতি আলী নূর বলেন, ‘আমরা তিন বছর ধরে বলে আসছি এই লাইন ও খুঁটি সরানোর জন্য। মসজিদে প্রবেশের মূল দরজার কাছেই বিদ্যুতের একটি খুঁটি রয়েছে। তাতে ট্রান্সফরমার লাগানো। লাইন গেছে ভবনের ওপর দিয়ে। কিন্তু পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সেটি সরাচ্ছে না। উল্টো আমাদের কাছে টাকা চাওয়া হয়েছে। মসজিদের তহবিল থেকে দেওয়ার মতো কোনো টাকা নেই। গত মঙ্গলবার এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আবার পল্লীবিদ্যুতের জেলা কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপকের কাছে লিখিত আবেদন দিয়েছি।’
নূরপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আবদুর রউফ বলেন, ‘মসজিদের ছাদ থেকে বিদ্যুতের লাইন ছোঁয়া যায়। সকালে গ্রামের সব শিশুরা মসজিদে পড়তে যায়, অনেকেই ছাদে ওঠে। তাই যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই লাইনটি এখান থেকে দ্রুত সরানো প্রয়োজন।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক অখিল কুমার সাহা বলেন, ‘গ্রামবাসীর আবেদনটি পেয়েছি। ছাতক জোনাল অফিসে বিষয়টি জানানো হবে। এখানে কারিগরি বিষয় আছে। মাঠে গিয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ টাকা চাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কাজটি ঠিকাদার করবে। তাই নিয়ম অনুযায়ী টাকা জমা দিতে হয়।’
