পঞ্চগড়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আইনজীবী গ্রেপ্তার

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৩৩ পিএম

পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার জেলার আটোয়ারী উপজেলার মির্জা গোলাম হাফিজ ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন কালিকাপুর গ্রামের সুশীল চন্দ্র রায়ের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা আটোয়ারী থানায় অভিযুক্ত আইনজীবী এইচ এম হাবিবুর রহমান হাবিবসহ তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করলে পুলিশ প্রধান আসামি হাবিবুর রহমান হাবিবকে গ্রেপ্তার করে।

হাবিবের বাড়ি জেলার আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের বারাগাঁও গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে এবং পঞ্চগড় জেলা আইনজীবী সমিতির একজন সদস্য। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী পুলিশ প্রহরায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মামলার বিবরণ, পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে ওই ছাত্রীর বাবার সঙ্গে দেখা করিয়ে দেবার কথা বলে আইনজীবী হাবীব তাকে তার খালার বাড়ি থেকে নিয়ে আটোয়ারী মির্জা গোলাম হাফিজ ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন কালিকাপুর গ্রামের মুচি (জুতা মেরামতকারী) সুশীল চন্দ্র রায়ের বাড়িতে নিয়ে আসেন।

সেখানে সুশীল ও তার স্ত্রী শুকনির সহায়তায় হাবীব ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। সনাতন ধর্মাবলম্বী সুশীলের বাড়িতে হাবীবের সঙ্গে ওই ছাত্রীর আসার বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। স্থানীয়রা ওই ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় হাবীবকে আটক করে।

পরে ছাত্রীর পরিবারকে খবর দেওয়া হলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে প্রথমে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রাতে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আটক আইনজীবী হাবীবকে রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু জাহেদের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। ওইদিন বিকেলে হাবীবকে আটোয়ারী থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা শুক্রবার রাতে অভিযুক্ত আইনজীবী এইচ এম হাবিবুর রহমান হাবীবকে প্রধান আসামি এবং ধর্ষণে সহায়তাকারী হিসেবে সুশীল চন্দ্র ও তার স্ত্রী শুকনিকে আসামি করে আটোয়ারী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।  

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আইনজীবী হাবীব সুদের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ওই ছাত্রীর বাবা, সুশীল সুদের টাকা গ্রহণ করায় সে সূত্রেই হাবীবের সঙ্গে তাদের পরিচয়।

ওই ছাত্রীর মা সাংবাদিকদের বলেন, হাবীবের কাছে ১৫ হাজার টাকা সুদের লেনদেন ছিল। এ সূত্র ধরেই আমার মেয়ের সঙ্গে হাবীবের পরিচয়। হাবীব প্রায়ই আমার মেয়েকে ফোনে উত্ত্যক্ত করত। দুয়েকবার বাসাতেও এসেছিল।

আটোয়ারী থানার ওসি ইজারউদ্দিন জানান, আইনজীবী হাবীবসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত আইনজীবী হাবীব থানা-হাজতে রয়েছে। তাকে আদালতে হাজির করা হবে। ওই ছাত্রী পুলিশি প্রহরায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত