ন্যায্য ভাড়ায় হয়রানি ও দুর্ঘটনামুক্ত যাতায়াতের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
রবিবার যাত্রী অধিকার দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে নাগরিকের হয়রানি ও দুর্ঘটনামুক্ত যাতায়াতের অধিকার সুনিশ্চিত জরুরি। এ ক্ষেত্রে গণপরিবহনে যাতায়াতের পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, যাত্রী অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে পরিবহনের সামগ্রিক চিত্র পাল্টে যাবে। মালিকরাও লাভবান হবেন। এতে মানবিক গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তাই যাত্রী অধিকার দিবস শুধু যাত্রীদের স্বার্থ নয়; বরং মালিক-শ্রমিক সবার স্বার্থ নিয়ে কথা বলবে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘গণপরিবহনে বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা, ভাড়া নৈরাজ্য ও সড়ক নিরাপত্তায় আমাদের ধারাবাহিক কার্যক্রমের ফলে সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকেও নির্দেশনা এসেছে। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতায় যাত্রী স্বার্থ বারবার ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। বিশৃঙ্খল পরিবহনের ফলে প্রতি বছর যানজটে হাজার কোটি টাকার শ্রমঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘সড়কে বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা, চাঁদাবাজি, নৈরাজ্য ইত্যাদির মধ্য দিয়ে দেশের সার্বিক শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ পায়। সরকার যখন উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে আরও বেশি বৈদেশিক বিনিয়োগ আনতে আগ্রহী হয়, তখন সড়ক পরিবহনের এই বিশৃঙ্খল অবস্থা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই এ সমস্যাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।’
আলোচনায় অংশ নেন অ্যাসোসিয়েশন অব বাস কোম্পানির প্রেসিডেন্ট খন্দকার রফিকুল হোসেন কাজল, হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যাপক হুমায়ুন কবির মোড়ল, যাত্রী কল্যাণ সমিতির যুগ্ম মহাসচিব এম মনিরুল হক, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ মেহেদী প্রমুখ।
