গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে প্রায় এক মাস আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তুলে নেওয়া হয় শেখ মামুন আল মুজাহিদ ওরফে সুমন (২৭), সারওয়ার হোসেন (২৪), আল-আমিন (২৫) ও মুজাহিদুল ইসলাম রোকন (২৬) নামে চার যুবককে। এরপর বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও তাদের সন্ধান পাননি স্বজনরা। গত ১১ সেপ্টেম্বর অনলাইন মিডিয়ায় প্রকাশিত খবর ও ছবি দেখে তারা জানতে পারেন নব্য জেএমবি’র সদস্য হিসেবে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার গাজীপুর শহরে একটি পত্রিকা অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে ওই যুবকদের স্বজনরা এমন দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সুমনের বাবা শ্রীপুর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মোসলেম উদ্দিন আহমেদ জানান, সুমন ঢাকার তিতুমীর কলেজে ইংরেজিতে অনার্সে পড়ে। গত ১৭ আগস্ট রাতে তার ছেলেকে শ্রীপুরে এক আত্মীয়ের বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তুলে নেওয়া হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাইনি। ১১ সেপ্টেম্বর একটি অনলাইন মিডিয়ায় প্রকাশিত খবর ও ছবি দেখে জানতে পারি উত্তরার আজমপুর এলাকা থেকে ২৪ জুলাই পল্টন থানার বোমা বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহে নব্য জেএমবি সদস্য হিসেবে সুমনসহ ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মোসলেহ উদ্দিন জানান, তার ছেলে কোনোভাবেই জেএমবি তৎপরতার সঙ্গে জড়িত নয়। সংবাদ সম্মেলনে একই কথা বলেন আল আমিনের মা মাহমুদা বেগম, রাহাতের বাবা লিটন মিয়া ও মা নাসিমা বেগম।
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সিলেট থেকে গ্রেপ্তার এক আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর উত্তরার আজমপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শ্রীপুরের সুমন, সারওয়ার, আল আমিন ও রোকনকে (২৬)। নব্য জেএমবি সদস্যদের সঙ্গে সুমন নিয়মিত যোগাযোগ করত এবং জঙ্গি তৎপরতা চালাত। অন্যদের সে নিজের কাজের জন্য তৈরি করেছে। সুমনের বিরুদ্ধে আরও ১২টি মামলা রয়েছে। এ বিষয়ে পল্টন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সেন্টু মিয়া জানান, পল্টন থানায় মামলা হলেও ওই মামলার তদন্ত করছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। তিনি ওই মামলার বিস্তারিত তথ্য জানেন না।
