যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে মারধরে নিহত তিন কিশোরের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রশ্নে রুল জারি করেছে উচ্চ আদালত। তাদের ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না রুলে তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। ভুক্তভোগী তিন পরিবারের পক্ষ থেকে করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের বেঞ্চ চার সপ্তাহের এ রুল জারি করে।
গত ২০ আগস্ট তিন পরিবারের পক্ষে ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, সমাজ কল্যাণ সচিব, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, যশোরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে সহকারী পরিচালক ও প্রবেশন কর্মকর্তাকে আইনি নোটিস পাঠান। নোটিসের জবাব না পাওয়ায় ওই ঘটনায় নিহত কিশোর পারভেজ হাসান রাব্বির (১৬) বাবা রোকা মিয়া, নাইম হাসান ওরফে আবু নাইমের (১১) বাবা মো. নান্নু এবং মো. রাসেল ওরফে সুজনের (১৭) বড় ভাই সাইফুল ইসলামের পক্ষে গত ২৭ আগস্ট হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। আবেদনের পক্ষে আইনজীবী সানজিদ সিদ্দিকী শুনানি করেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশের তিনটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে নিরাপত্তা, অপর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসা, ধারণ ক্ষমতার বেশি শিশু রাখা এবং বুলিং (এক ধরনের শারীরিক ও মানসিক) নিরসনে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না রুলে এটিও জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।’
প্রসঙ্গত, গত ১৩ আগস্ট যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে মারধরে তিন কিশোর নিহত ও অন্তত ১৫ জন আহত হয়। এ ঘটনায় নিহত পারভেজ হাসান রাব্বির বাবা রোকা মিয়া ১৪ আগস্ট যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। এ মামলায় কেন্দ্রের সহকারী পরিচালকসহ পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইতিমধ্যে পাঁচ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
