অর্থাভাবে বন্ধ হলো হালিশহরের করোনা আইসোলেশন সেন্টার

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:২৪ পিএম

চট্টগ্রামে প্রতিদিনই করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। সোমবারও ৭৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শুরুতে করোনা পজিটিভ এবং উপসর্গ থাকা রোগীদের যখন হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দেয় হচ্ছিল তখন চট্টগ্রামে আইসোলেশন সেন্টার চালু করে কয়েকজন তরুণ উদ্যোক্তা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলেও অর্থাভাবে সেই সেন্টারটি বন্ধ হয়ে গেল।

মঙ্গলবার থেকে নগরীর হালিশহরে অবস্থিত ‘করোনা আইসোলেশন সেন্টার চট্টগ্রাম’ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেন উদ্যোক্তারা। গত ১৩ জুন নগরীর হালিশর ওয়াপদা মোড়ে প্রিন্স অব চিটাগাং নামক কমিউনিটি সেন্টারে আইসোলেশন সেন্টারটি প্রতিষ্ঠা করেন নগর ছাত্রলীগের বর্তমান-সাবেক নেতাকর্মীরা।

এর আগে ৩১ আগস্ট চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য স্থাপিত দেশের প্রথম ফিল্ড হাসপাতালটিও বন্ধ হয়ে যায়।

হালিশহরের করোনা আইসোলেশন সেন্টারের প্রধান উদ্যোক্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, যখন হাসপাতাল এবং ক্লিনিকগুলো রোগী ভর্তি করাচ্ছিল না, তখন আমরা এই কমিউনিটি সেন্টারটিকে আইসোলেশন সেন্টার করেছিলাম। আমাদের সাথে কমিউনিটি সেন্টার মালিকের তিনমাস ব্যবহার করার চুক্তি ছিল। এছাড়া সেন্টারটি সম্পূর্ণ অনুদানের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছিল। এখন অর্থের সীমাবদ্ধতা যেমন আছে তেমনি চুক্তির সময়ও শেষ। সব মিলিয়ে রোগী থাকার পরও বন্ধ করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শুরুর দিন থেকে এ পর্যন্ত ৭৬৫ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত এবং উপসর্গ থাকা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছে। অনুদানের টাকায় চিকিৎসক নার্সদের বেতন দেয়া হতো।

এই বেসরকারি আইসোলেশন সেন্টারে রোগীদের সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং খাবার দেয়া হতো। ১২জন চিকিৎসক, নয়জন নার্স এবং ৫০জন স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমেই রোগীদের সেবা দেয়া হতো। অনুদানের টাকায় চিকিৎসক-নার্সদের বেতনও দেয়া হতো। 

সেন্টারটির কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেয়ার সময় উদ্যোক্তারা আয়-ব্যয়ের হিসাবও তুলে ধরেন।  সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান সমন্বয়ক নুরুল আজিম রনি সমাপনী অনুষ্ঠানের পরিচালনা করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবিরসহ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত