বেঁচে থাকলে আজ ৫০তম জন্মদিন পালন করতেন সালমান শাহ। অমর নায়কের জন্ম ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ, পঞ্চাশ ঘরে পা রাখতেন তিনি।
দিনটি নানানভাবে স্মরণ করছেন পরিবার, ভক্ত ও অনুরাগীরা।
সালমানের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার মাত্র চার বছরের। যার পুরোটাই ছিল বর্ণাঢ্য। ব্যক্তিগত জীবনে ঘাত-প্রতিঘাত সত্ত্বেও বলা যায়, সিনেমায় এসেই সবকিছু জয় করে নিলেন।
এ অভিনেতার ২৭টি ছবি সিনেমা হলে মুক্তি পায়। যার অনেকগুলোতে ডামি ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া বেশ কিছু অসমাপ্ত ছবিতে অন্য নায়কেরা অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পান।
প্রথম ছবি ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ থেকেই দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। অন্য ছবির মধ্যে আছে অন্তরে অন্তরে, তুমি আমার, আনন্দ অশ্রু, জীবন সংসার, সত্যের মৃত্যু নেই, মায়ের অধিকার, এই ঘর এই সংসার ও আশা ভালোবাসা। অবশ্য কিশোর বয়সে আলমগীর কবিরের পরিচালনায় ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এ অভিনয় করলেও সেই ছবি অসমাপ্ত থেকে যায়।
টেলিভিশনেও তার অভিনীত বেশ কিছু নাটক জনপ্রিয়তা পায়।
১৯৮৫/৮৬ সালের দিকে হানিফ সংকেতের গ্রন্থনায় ‘কথার কথা’ নামে একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান প্রচার হতো। এর কোনো একটি পর্বে ‘নামটি ছিল তার অপূর্ব’ নামের একটি গানের মিউজিক ভিডিও পরিবেশিত হয়। হানিফ সংকেতের কণ্ঠে গাওয়া এই মিউজিক ভিডিওতে মডেল হওয়ার মাধ্যমেই সালমান শাহ মিডিয়ায় প্রথম সবার নজর কাড়েন। তখন অবশ্য তিনি ইমন নামেই পরিচিত ছিলেন।
আরও কয়েক বছর পর প্রয়াত নাট্যজন আব্দুল্লাহ আল মামুনের প্রযোজনায় ‘পাথর সময়’ ধারাবাহিক নাটকে একটি ছোট চরিত্র এবং কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রেও কাজ করেছিলেন। সিনেমায় নাম করার পর অভিনয় করেন আকাশ ছোঁয়া, দোয়েল, সব পাখি ঘরে ফেরে, সৈকতে সারস, নয়ন, স্বপ্নের পৃথিবী ও ধারাবাহিক নাটক ইতিকথায়।
বলা হয়ে থাকে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর সালমানের জনপ্রিয়তা ও দর্শক আগ্রহ অনেকটা বেড়ে যায়। তবে হয়তো নব্বই দশকে কেউ ভাবতে পারেননি প্রয়াণের আড়াই দশক পর তার জনপ্রিয়তা ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকবে দিন দিন।
