বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) ‘যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান চাষাবাদের লক্ষ্যে খামার যন্ত্রপাতি গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির এক বিজ্ঞানীর দাবি, হোল ফিড মিনি কম্বাইন হারভেস্টার নামে একটি যন্ত্র উদ্ভাবন বা উন্নয়নে ১৫-২০ লাখ টাকা খরচ হওয়ার কথা থাকলেও এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি টাকা। হেড ফিড মিনি কম্বাইন হারভেস্টার নামের আরেকটি যন্ত্র উদ্ভাবন বা উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে আড়াই কোটি টাকা। অথচ এটি জাপান থেকে আমদানি করলে সর্বোচ্চ ব্যয় হবে ২২ লাখ টাকা। এ ছাড়া ব্রির মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. দুররুল হুদা প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি করলেও প্রভাব খাটিয়ে প্রকল্প পরিচালক করা হয়েছে তারই জুনিয়র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ কে এম সাইফুল ইসলামকে।
ব্রি সূত্রে জানা গেছে, যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান চাষাবাদের লক্ষ্যে খামার যন্ত্রপাতি গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পটি ২০১৯ সালে সরকারের পরিকল্পনা কমিশন অনুমোদন দেয়। ৪৪ কোটি টাকার এ প্রকল্পটির কাজ ওই বছরের ১ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে। শেষ হবে ২০২৪ সালের ৩০ জুন। প্রকল্পের আওতায় ১০টি আধুনিক যন্ত্র উদ্ভাবন ও উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি ২০১৬ সালে প্রস্তাব করা হলেও তা অনুমোদন পায় ২০১৯ সালের শেষের দিকে। নতুন প্রকল্পের বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রতিষ্ঠানটির উদ্ভাবন করা বেশ কয়েকটি যন্ত্র উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, এসব যন্ত্র উদ্ভাবনের চেয়ে উদ্ভাবিত যন্ত্রপাতি উন্নয়ন করা যেতে পারে সে জন্য এত অর্থের প্রয়োজন নেই। এসব যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে কিনে আনতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে তার চেয়ে নতুন করে উদ্ভাবন ও উন্নয়নের জন্য অন্তত ১০ গুণ বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে। যেসব খামার যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন ও উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে তা অনেক আগেই বিশে^ উদ্ভাবন হয়ে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্রির ওই বিজ্ঞানী বলেন, ‘প্রকল্পে হোল ফিড মিনি কম্বাইন হারভেস্টার উদ্ভাবন বা উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি টাকা; যা এরই মধ্যে ব্রি উদ্ভাবন করে ফেলেছে। এটির আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন করতে সর্বোচ্চ ব্যয় হবে ১৫-২০ লাখ টাকা। হেড ফিড মিনি কম্বাইন হারভেস্টার উদ্ভাবন বা উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে আড়াই কোটি টাকা। এটি জাপান থেকে আমদানি করলে সর্বোচ্চ ব্যয় হবে ২২ লাখ টাকা। রিপার বাইন্ডার উদ্ভাবন বা উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ লাখ টাকা। এটি আমদানি করলে ব্যয় হবে ৪০ হাজার টাকার মতো। ম্যানুয়াল রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টার উদ্ভাবন বা উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ লাখ টাকা। এটি আমদানি করলে অথবা নিজেরা তৈরি করলে ব্যয় হবে ২৫ হাজার টাকার মতো। এ যন্ত্রটি এরই মধ্যে ব্রি উদ্ভাবন করেছে। পাওয়ার উইডার উদ্ভাবন বা উন্নয়নের জন্য ২৫ লাখ টাকা ধরা হয়ছে। এটি উন্নয়নে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হবে।’
এদিকে প্রকল্পের জন্য ১১টি এলাকাকে নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে গাজীপুর, রংপুর, বরিশাল ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, গোপালগঞ্জ সদর, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, হবিগঞ্জ সদর, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ, ফেনীর সোনাগাজী, সাতক্ষীরা সদর ও কুষ্টিয়া। তবে এসব এলাকার বাইরে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায়ও প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক সাইফুল ইসলাম ও বিভাগীয় প্রধান ড. আব্দুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এসব নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে ব্রির মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সব নিয়ম মেনে প্রকল্পের কাজ করা হচ্ছে। কিছু যন্ত্রপতি আগে আবিষ্কার করা হলেও যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তা আধুনিকায়ন করছি। আমাদের দেশের উপযোগী করে আরও হালকা ও সহজে বহনযোগ্য মেশিনারিজ তৈরি করা হবে। যাতে কৃষক কম দামে ও বাংলাদেশের উপযোগী কৃষি যন্ত্রপাতি হাতে পান, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে।’
