মাদারীপুরে শ্রবণ প্রতিবন্ধী এক নারীর গর্ভের সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবিতে করা মামলায় শামসুল হক হাওলাদার (৪৫) নামে একজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে আদালত। এই রায়ের ফলে ২০ বছর পর পিতৃপরিচয় পেল সেই ছেলেটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে এই মামলার অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ কানাইপুর গ্রামের শামসুল হক একই এলাকার এক কিশোরীর (১৫) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। পরে ভুয়া কাবিননামা দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে। এতে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে স্বামী ও সন্তানের স্বীকৃতি চাইলে অস্বীকার করে শামসুল। স্ত্রী ও সন্তানের স্বীকৃতি পেতে ১৯৯৯ সালের ২৮ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই বছরের ১৮ নভেম্বর কালকিনি থানার এসআই মো. ওয়াদুদ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০১৭ সালে আদালত ডিএনএ টেস্টের জন্য নির্দেশনা প্রদান করে। কিন্তু শামসুল ডিএনএ টেস্ট করেনি। জন্ম নেওয়া ওই নারীর ছেলের বয়স এখন ১৯ বছর ৬ মাস। পরে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে শামসুলকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেয়।
মাদারীপুর আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান জানান, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন ছিল। দীর্ঘদিন শুনানি শেষে শামসুলকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত রায় ঘোষণা করে। দণ্ডিত শামসুল পলাতক রয়েছে বলেও জানান তিনি।
