এমসি কলেজে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ:

২৪ ঘণ্টায়ও গ্রেপ্তার নেই, ফেসবুকে পোস্ট দুই অভিযুক্তের

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৩৭ এএম

সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও অভিযুক্ত কোন আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। তবে এর মধ্যে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন দুই অভিযুক্ত মাহফুজুর রহমান মাসুম ও রবিউল হাসান।

শনিবার সকাল ৯টার দিকে ফেসবুকে পোস্ট দেন মাহফুজুর রহমান মাসুম। সেখানে তিনি লিখেন, এরকম জঘন্য কাজের সাথে আমি জড়িত না। যদি জড়িত প্রমাণ পান প্রকাশ্যে আমাকে মেরে ফেলবেন। একমাত্র আল্লাহর উপর বিশ্বাস আছে। আল্লাহ আমাকে নির্দোষ প্রমাণ করবেন। তবে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগে আমাকে সুইসাইডের দিকে নিয়ে যাওয়া আপনাদের বিচার আল্লাহ করবেন।

এরপর সকাল ১০:৪০ মিনিটে পোস্ট দেন রবিউল হাসান। তিনি লিখেন, গতকাল এমসি ছাত্রাবাসে গনধর্ষনের সাথে, কে বা কারা আমাকে জরিয়ে অনেক অনলাইন নিউজ করিয়েছেন, আমি এমসি কলেজ ছাত্র, কিন্তু আই হোস্টেলে কখনোই ছিলাম না, আমি বাসায় থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি লিখেন, আপনাদের সকলের কাছে অনুরোধ করছি, আমি এই নির্মম গনধর্ষনের সাথে জড়িত নই, আমাদের পরিবার আছে। যদি আমি এই জঘন্য কাজের সাথে জড়িত থাকি তা হলে প্রকাশ্যে আমাকে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দেওয়া হোক। আমি কোনো ভাবেই এই কাজের সাথে জড়িত নই।

image

পুলিশ গ্রেপ্তার করতে না পারলেও অভিযুক্ত দুই আসামির ফেসবুক পোস্ট দেয়ার বিষয়টি ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে সারাদিন।

পরে অন্য অভিযুক্তদের মতো মাহফুজুর রহমান মাসুম তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাকটিভেট করে দেন। তবে রবিউলের অ্যাকাউন্ট এখনো সচল রয়েছে।

শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তরুণীর স্বামী বাদী হয়ে শনিবার ছয় আসামির নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরো তিনজনকে আসামি করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহপরান থানায় মামলা করেন।

মামলার আসামিরা ছাত্রলীগের ‘সক্রিয় কর্মী’ বলে পুলিশ ও দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। করোনা মহামারির কারণে বর্তমানে কলেজের ছাত্রাবাস বন্ধ থাকার পরও তারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ছাত্রাবাসে বসবাস করে আসছিল বলে জানা গেছে।

মামলার আসামিরা হলেন সাইফুর রহমান (২৮), তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), শাহ মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), অর্জুন লস্কর (২৫), রবিউল ইসলাম (২৫) ও মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫)। এদের মধ্যে তারেক ও রবিউল বহিরাগত এবং অন্যরা এমসি কলেজের সাবেক ও বর্তমান ছাত্র। শাহপরান থানার ওসি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তবে শনিবার এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আসামি ধরা পড়েনি।         

আসামিদের মধ্যে সাইফুর রহমানের বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জে ও বর্তমান ঠিকানা এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়কের বাংলো বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শাহ মাহবুবুর রহমানের বাড়ি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বেগুনিপাড়ায় ও বর্তমান ঠিকানা ছাত্রাবাসের ৭ নম্বর ব্লকের ২০৫ নম্বর কক্ষ, মাহফুজুর রহমানের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি গ্রামে, রবিউলের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল গ্রামে, অর্জুনের বাড়ি জকিগঞ্জের আটগ্রামে এবং তারেকের বাড়ি সুনামগঞ্জ শহরের হাসাননগর এলাকায়।

এদের মধ্যে সাইফুর, রনি ও মাহফুজুর এমসি কলেজের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র এবং অর্জুন এমসি কলেজের সাবেক ছাত্র। 

শনিবার রাত ১০টায় আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাইলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) জ্যোতির্ময় সরকার বলেন, এখন পর্যন্ত দৃশ্যত কোন অগ্রগতি নেই। গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত