নাব্যসংকটে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২০, ১১:০৫ পিএম

নাব্যসংকটের কারণে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে আবারও বন্ধ হলো ফেরি চলাচল।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এর আগে গত মাসে চার দফায় অন্তত ১৫ দিন বন্ধ ছিল এই রুটে ফেরি চলাচল। এদিকে হঠাৎ ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকরা। উভয় পাশে আটকা পড়েছে কয়েক শ যানবাহন।

বিআইডব্লিউটিসি কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ভোরে উভয় ঘাট থেকে ৬টি ফেরি চলাচল শুরু করে। সকাল ৭টার দিকে কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে ফেরি কুমিল্লা স্বল্পসংখ্যক যানবাহন ও যাত্রী নিয়ে শিমুলিয়া ঘাটে যাচ্ছিল। পদ্মা সেতুর কাছাকাছি চায়না নৌ-চ্যালেনে প্রবেশ করলে সেখানে সৃষ্ট ডুবোচরে ফেরিটি আটকে যায়। দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে সেটি শিমুলিয়া ঘাটে পৌঁছায়। বেলা ১১টার পর থেকে বিআইডবিস্নউটিএর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘাট কর্তৃপক্ষ ফেরি চলাচল বন্ধ রাখে।

শিমুলিয়া থেকে বরিশালগামী একটি প্রাইভেট কারের যাত্রী অজয় কুণ্ডু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সকাল ১০টা থেকে ঘাটে ফেরি পারাপারের জন্য বসে আছি। দুপুর ১২টার পরে শুনি ফেরি নাকি আর চলবে না। এখন গাড়ি নিয়ে কীভাবে পদ্মা পাড়ি দেব? ঘাটের লোকদের কাছে জানতে চাইলাম তারা পাটুরিয়া হয়ে যেতে বলে। কিন্তু পাটুরিয়া হয়ে যাওয়ার পথ অনেক দীর্ঘ। এত দুর্ভোগ নিয়ে ঘাটে বসে থেকেও আবার উল্টোপথে গেলে আমাদের কষ্টের আর কিছু বাকি থাকে না।’

বিআইডব্লিউটিসি কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুল আলিম বলেন, নৌপথের বিভিন্ন স্থানে নাব্যসংকট থাকায় আমরা ঠিকমতো ফেরি চালাতে পারছিলাম না। গত মাসে আমরা চার দফায় ফেরি চলাচল বন্ধ রেখেছি। দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও খুব কষ্টে ৫-৬টি ছোট ও মাঝারি ফেরি সচল রেখেছিলাম। কিন্তু আজ সকালে নৌ-চ্যালেনের মুখে একদম পানি কমে ভয়াবহ আকার সৃষ্টি করে। ডুবোচরে প্রায় প্রতিটি ফেরি আটকে যাচ্ছিল। নাব্য অপসারণ না করা হলে আমরা ফেরি চালাতে পারব না।

কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটের ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) মনিরুল ইসলাম বলেন, ফেরি বন্ধ হওয়ার আগে যানবাহনের ভালো চাপ ছিল। তবে চলাচল স্থগিত রাখার পর আমরা হ্যান্ড মাইকিং করে যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকদের বিকল্প নৌপথ হিসেবে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ ব্যবহার করতে অনুরোধ জানিয়েছি। এরপর থেকে যানবাহনের চাপ কমতে থাকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত