ঢাবি শিক্ষার্থীরা ১২-১৫ টাকায় পড়ে, ইটস অ্যামেজিং রেকর্ড: উপাচার্য

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২০, ০৫:০৩ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা ১২ ও ১৫ টাকায় পড়াশোনা করেন জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, ইটস অ্যামেজিং রেকর্ড। 

তিনি বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীর অনুপাত ও বিদেশি শিক্ষকের অনুপাত কম হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে রয়েছে।

ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন উপাচার্য। 

বুধবার সন্ধ্যায় ‘শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এ আমার অহংকার-এখনই সময় দায় মোচনের’ শিরোনামে  এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, ‘ফরেন ডেলিগেটরা (বিদেশি প্রতিনিধি) এখানে এলে যখন উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক হয়, তখন আমি তাদের বলি আমাদের ৮৪টি বিভাগ, ১১টি ইনস্টিটিউট, প্রায় ৬০টি গবেষণাকেন্দ্র, ১৪০টি অধিভুক্ত ও উপাদানকল্প প্রতিষ্ঠান আছে। এগুলো শুনে তারা অবাক হয়ে যান। তারা বলেন, ইটস আ হিউজ অ্যান্ড ম্যাসিভ ইউনিভার্সিটি।

উপাচার্য বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০ হাজার, শিক্ষার্থীরা ১২ টাকায়, ১৫ টাকায় পড়ে—ইটস অ্যামেজিং রেকর্ড। এত শিক্ষকের বিদেশি ডিগ্রি আছে৷ এগুলো শুনে বিদেশি প্রতিনিধি বলেন, এগুলো তো তোমাদের ওয়েবসাইটে দেখি না। ফলে তথ্যগুলো আপলোড-শেয়ারিং অত্যন্ত জরুরি। আমরা সেদিকে অ্যাটেনশন দিচ্ছি।

অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ‘অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ের জন্য বছরব্যাপী বাজেট থাকে, তারা একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরি করে। টাইমস হায়ার এডুকেশন, কিউএস র‌্যাঙ্কিংও আমাদের সঙ্গে অনেক সময় যোগাযোগ করে। এগুলোতে অংশগ্রহণের প্রয়োজন আছে। আমরা বিশ্বব্যাপী র‌্যাঙ্কিংয়ে ভালো অবস্থানে থাকলে এর একটি প্রভাব শিক্ষার্থীদের মনোভাবের ওপর পড়ে। অনেক সময় আমরা সেগুলোকে উপেক্ষা করতাম। এত দিন আমরা তথ্য দিইনি। আমরা বলতাম যে র‌্যাঙ্কিংয়ে অংশগ্রহণ করব না। তবে কয়েক বছর যাবৎ আমরা র‌্যাঙ্কিংয়ে অংশগ্রহণ করছি এবং একটু একটু তথ্য দিচ্ছি।

তিনি বলেন, তথ্য দেওয়ার বড় আকারের ঘাটতি আমাদের ছিল। তথ্যপ্রযুক্তির সম্পৃক্ততায় আমরা তুলনামূলক ট্র্যাডিশনালভাবে অগ্রসর হতাম। এখন সে বিষয়টিকে জোরদার করছি। আমাদের আইসিটি সেল সেটি করছে। এটি দুই বছর ধরে কার্যকর হয়েছে। ডেটা না থাকায় সংস্থাগুলো আমাদের মূল্যায়ন করতে পারত না। বিশ্ববিদ্যালয়কে অটোমেশনের আওতায় আনার কাজ চলছ। এটি হয়ে গেলে সমস্যাটি থাকবে না।’

র‌্যাঙ্কিং নিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘দুটো জায়গায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় আকারের ঘাটতি আছে। সেই নিরিখে যারা ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটির সঙ্গে এনগেজড, তারা সাহায্য করতে পারবেন। র‌্যাঙ্কিংয়ের দুটি প্যারামিটার হলো বিদেশি শিক্ষার্থীর অনুপাত ও বিদেশি শিক্ষকের অনুপাত। বিদেশি শিক্ষক আমাদের এখানে তুলনামূলক কম, সংখ্যায় মোট ২৫-৩০ জন হবেন। দিস ইজ নট এনাফ। আমাদের শিক্ষকরা অনেক গবেষণা করেন, অনেকের হাই ইম্প্যাক্ট ফ্যাক্টর জার্নালে প্রকাশনা আছে, যা খুবই প্রশংসনীয়। কিন্তু আমাদের ট্র্যাডিশনাল মাইন্ডসেটের কারণে তথ্যগুলো প্রকাশ হয় কম।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত