জয়পুরহাটের জামালগঞ্জে সুদের টাকা দিতে না পারায় এক কসাইকে পিটিয়ে জখম করেছে দাদন ব্যবসায়ীর ভাড়াটে লোকজন।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জামালগঞ্জ বাজার এলাকার প্রভাবশালী এক দাদন ব্যবসায়ী আব্দুল হাই সওদাগরের (ভুতু) কাছ থেকে একই এলাকার কসাই দেলোয়ার হোসেন ২০১৩ সালে পঞ্চাশ হাজার টাকা সুদের ওপর ধার নেয়। যার সুদ বাবদ সপ্তাহে দুই হাটে দুই হাজার টাকা করে দিয়ে আসছিলেন তিনি।
এ ব্যাপারে কসাই দেলোয়ার হোসেন বলেন, ২০১৩ থেকে করোনার প্রাদুর্ভাবের আগ পর্যন্ত উক্ত পঞ্চাশ হাজার টাকার প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ও তার ব্যবহারকৃত একটি টিভিএস মোটরসাইকেল স্টাম্পে লিখে নিয়েছেন দাদন ব্যবসায়ী আব্দুল হাই সওদাগর (ভুতু)।
তিনি বলেন, করোনার সময়ে ব্যবসার অবনতি হওয়ায় কয়েক মাসের সুদের টাকা দিতে না পারায় মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে জামালগঞ্জ বাজারে সালিসের কথা বলে তাকে ডেকে নিয়ে স্থানীয় ভাড়াটে ৫/৭ জন লোক তার ওপর হামলা ও বেধড়ক মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
এ সময়ে কসাই দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনেক কাকুতি-মিনতি করে তাকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান।
জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, কসাই দেলোয়ার হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার বাম চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম, নাক ফেটে প্রচুর রক্তপাত হয়েছে, ডানে কানে সেলাই, মুখমণ্ডল ফুলে উঠেছে, বাম হাতে গুরুতর আঘাত লেগে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
কসাই দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী তাসলিমা বেগম বলেন, স্বামী সন্তান নিয়ে বর্তমানে প্রভাবশালী আব্দুল হাই সওদাগর (ভুতু) ও তার লোকজনের হুমকিতে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসন ও নেতৃস্থানীয়দের কাছে এ সমস্যার সমাধান ও নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
তবে আব্দুল হাই সওদাগর (ভুতু) দাদন ব্যবসার কথা অস্বীকার করে বলেন, ২০১৮ সালে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে কসাই দেলোয়ার হোসেন তার কাছ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ধার নেন এবং তার মোটরসাইকেল স্ট্যাম্পে ডিড করে দেয়। পরে সেই টাকা ফেরত দেওয়ার তাগাদা দিলে কসাই স্থানীয় রুকিন্দিপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আনোয়ার হোসেন বাবুকে অবগত করলে ওই দিন জামালগঞ্জ বাজারে এক সালিশি বৈঠকে কী হয়েছে তা শালিসকারীরা জানে। আমি এর বেশি কিছু জানি না।
রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আনোয়ার হোসেন বাবু বলেন, উপরিউক্ত ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল হাই সওদাগর (ভুতু) এর লোকজন কসাইকে মেরেছে। আমি চেয়ারম্যানকে এ ঘটনা জানিয়েছি।
আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহসান কবির বিপ্লব বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে ঘটনাটি শুনেছি, আলোচনার সময় আব্দুল হাই সওদাগরের (ভুতু) লোকজনের সঙ্গে একপর্যায়ে দৌড়াদৌড়ি সময় এ ঘটনা ঘটে। আপনারাও তদন্ত করে দেখেন।
উপরিউক্ত ঘটনার বিষয়ে আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল লতিফ খান এর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
