আর মাত্র কয়েকদিন পরই শুরু হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। প্রতি বছর এমন সময় মণ্ডপগুলোতে দিন-রাত চলতো সাজ-সজ্জার কর্মযজ্ঞ। মণ্ডপগুলোকে নতুনত্ব সংযোজন করে ভক্তদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে ব্যস্ততার সীমা থাকতো না কারোরই। কিন্তু এবার চলমান কভিড-১৯ পরিস্থিতি সব কিছুই মলিন করে দিয়েছে।
ধর্মীয় এ উৎসবটির সবকিছুতেই কাটছাট করা হয়েছে। নেই তেমন কোনো ব্যস্ততা-নেই সাজ সজ্জার ধামাকাযজ্ঞ। প্রতিবারের মতো মণ্ডপ সম্মুখে দৃষ্টিনন্দন গেইট নির্মাণের দৃশ্যও চোখে পড়ছে না এবার।
ফেনী জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক শুক দেবনাথ তপন জানান, ২১ অক্টোবর দেবী দুর্গার বোধনের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২২ অক্টোবর ষষ্ঠীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে মহাসপ্তমী পূজা। এরপর মহাঅষ্টমী, কুমারী পূজা, মহানবমী ও দশমী পূজা শেষে ২৭ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।
তিনি জানান, গত বছর এমন দিনে মণ্ডপে সাজসজ্জার কাজে সবাই ব্যস্ত সময় পার করতো। চোখ ধাধানো লাইটিং আর বিলাসবহুল ফটক মণ্ডপে আগ্রহী করে তুলতো ভক্তদের। কিন্তু এবার তেমন কিছুই করা হচ্ছে না। মহামারিকালে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করতেই সবকিছুকে একেবারেই সীমিত করা হচ্ছে।
ফেনী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্রশীল জানান, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে পূজায় করণীয় সম্পর্কে সম্প্রতি আমরা সভায় কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। এবার শুধুমাত্র আমাদের পূজার পর্বটাই হবে। বাহ্যিক আনন্দ, সাজ-সজ্জা, আলোকসজ্জার পরিধি অনেকাংশেই সীমিত করা হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে বাজেট গতবারের তুলনায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। করোনার কারণে সকলকে নিরুৎসাহিত করতেই কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে জেলা কমিটি থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রাজিব খগেশ দত্ত জানান, এবার ফেনীতে মণ্ডপের সংখ্যাও কমে গেছে। গত বছর জেলায় ১৪০টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন করা হয়েছে। কিন্তু এবার ৩টি কমিয়ে ১৪০টি মণ্ডপে সীমিত পরিসরে পূজার আয়োজন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ফেনী সদর উপজেলায় একটি মণ্ডপ বাড়িয়ে ৪৬টি মণ্ডপে পূজার প্রস্তুতি চলছে।
এছাড়া পূর্বের ন্যায় ফেনী পৌরসভায় ১১টি, দাগনভূঞায় ১৮টি, সোনাগাজীতে ২২টি, ছাগলনাইয়ায় ৫টি, পরশুরামে ৬টি পূজার জন্য মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে। এছাড়াও ফুলগাজী উপজেলায় মণ্ডপের সংখ্যা ৩৩ থেকে কমিয়ে ২৯টিতে নিয়ে আসা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার ১৩৭টি মণ্ডপের জন্য ৫০০ কেজি হারে চাল বরাদ্ধ পাওয়া গেছে। এছাড়াও জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ থেকেও পূজার ধরন ও সার্বিক বিষয় নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাবেন বলে জানিয়েছেন হিন্দু কমিউনিটির এ নেতা।
