করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্তত ১৪ দিন আইসোলেশনে থাকতে হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে সংক্রমণ রুখতে এমন নীতিমালার কথাই গত সাত মাস ধরে বলা হচ্ছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেলায় যেন কোনো নিয়মই নিয়ম নয়। করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির তিন দিনের মাথায় তিনি হোয়াইট হাউজে ফিরে আসেন হাসপাতাল ত্যাগ করে। শুধু তাই নয়, আজ একটি নির্বাচনী সমাবেশ ও বাইডেনের সঙ্গে বিতর্কেও অংশ নিতে চাইছেন তিনি। সংক্রমণের শিকার ট্রাম্প জনসম্মুখে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হবেন তাই এখন আলোচনার বিষয়।
কভিড-১৯ ‘পজিটিভ’ হওয়ার পর মাত্র এক সপ্তাহ পেরিয়েছে। তার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিকিৎসা শেষ এবং এ সপ্তাহান্তেই তিনি জনসম্মুখে আসতেও পারবেন বলে আশা তার চিকিৎসকদের। হোয়াইট হাউজের চিকিৎসক ডা. শন কনলি বলেন, প্রেসিডেন্টের শরীর ওষুধে ‘দারুণভাবে সাড়া’ দিয়েছে এবং তার অবস্থা ‘স্থিতিশীল আছে’। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রকাশ করা এক লিখিত বার্তায় ডা. কনলি আরও বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার রোগ শনাক্তের পর আগামী শনিবার ১০ দিন হবে। যে দলটি প্রেসিডেন্টকে উন্নত চিকিৎসা দিচ্ছেন তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে আমি সম্পূর্ণরূপে বিশ্বাস করি, প্রেসিডেন্টের ওই সময়ের মধ্যে পুনরায় জনসম্মুখে আসা সম্পূর্ণ নিরাপদ হবে।’ পরে বৃহস্পতিবার রাতে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, শুক্রবার আবার তার কভিড-১৯ পরীক্ষা করা হবে এবং সপ্তাহ শেষে তিনি একটি ‘সমাবেশ আয়োজন করতে পারবেন বলে আশা করছেন’। তিনি আরও বলেন, ‘আমি আসলেই খুব ভালো বোধ করছি। আশা করি শনিবার সন্ধ্যায় একটি নির্বাচনী সমাবেশ আয়োজন করতে পারব। সম্ভবত সেটি ফ্লোরিডায় হবে।’
নিজের এত দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠার বিষয়ে তিনি ফক্স নিউজকে আরও বলেন, ‘আমার স্বাস্থ্য একদম ঠিকঠাক থাকায় আমি ফিরে এসেছি। কভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার পর ভাইরাস প্রতিরোধে আমাকে যেসব চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল সেগুলোর বেশিরভাগই বন্ধ করা হয়েছে। তবে এখনো একাধিক স্টেরয়েড নিতে হচ্ছে।’
ট্রাম্পের করোনা চিকিৎসা নিয়েও আছে বিতর্ক। চিকিৎসকদের দাবি, করোনায় আক্রান্ত প্রেসিডেন্টকে যে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে তা আমেরিকান জনগণের পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়। ওষুধের দামের কারণেই আমেরিকানরা চাইলেও এই চিকিৎসা নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছে সিএনএনসহ যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সংবাদমাধ্যম।
