পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে টানা ছয়দিনের মতো রাস্তায় বিক্ষোভ চালিয়ে গেছে নাইজেরিয়া। সংঘর্ষে এক পুলিশ কর্মকর্তা ও এক বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন।
বিবিসি জানায়, পুলিশি নির্যাতনে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে এলে আফ্রিকার দেশটিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী স্পেশাল অ্যান্টি-রোবারি স্কোয়াডের (সার্স) বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার, নির্যাতন, নিপীড়ন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তোলে বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভের দুইদিন পর দেশটির প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদু বুহারি সার্স বাহিনী বিলুপ্তির ঘোষণা দেন।
অভিযুক্ত সার্সের সকল কর্মকর্তাদের বদলি করা হবে এবং এই বাহিনীর স্থলে নতুন একটি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ চলছে জানায় নাইজেরিয়ার সরকার।
তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে পুলিশের অন্য ইউনিটে যুক্ত করার খবরে বিক্ষোভ চালিয়ে যায় জনতা।
সোমবার নাইজেরিয়ার সবচেয়ে বড় শহরে বিক্ষোভ দমনে পুলিশ গুলি চালায়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর ছুড়ে মারে।
এতে পরিস্থিতি আরও বেশি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে এক পুলিশ কর্মকর্তা ও ৫৫ বছর বয়সী এক বেসামরিক লোক নিহত হন।
পুলিশ জানায়, তাদের এক কর্মকর্তা নিহত এবং দুইজন আহত। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অস্ত্রধারী ছিল বলে তারা দাবি করে।
এদিকে স্বাধীনতার ৬০ বছরের মধ্যে পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে এ প্রথম এমন বিক্ষোভ দেখল নাইজেরিয়া। তরুণরাই নেতৃত্ব দিচ্ছে এ বিক্ষোভের, অংশগ্রহণকারীরাও অধিকাংশ তরুণ।
বিক্ষোভে অংশ নেয়া এসব তরুণের বয়স ১৮ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। জন্মের পর থেকে এখনো তারা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দেখা পায়নি। বিনামূল্যে শিক্ষার দেখাও তারা পায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষকদের একের পর এক ধর্মঘটের কারণে সেশন জটে পড়ে তাদের শিক্ষা জীবন দীর্ঘায়িত হয়েছে।
এমন পরিস্থিতি পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নাইজেরিয়ার তরুণেরা।
জুন মাসে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের মে মাস পর্যন্ত সার্সের নিপীড়ন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন অন্তত ৮২ জন।
সংস্থাটি জানায়, পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে নাইজেরিয়া সরকার আইন করলেও তথ্য প্রমাণের অভাবে অভিযুক্ত কোনো কর্মকর্তাকেই দোষী সাব্যস্ত করা যায়নি।
এতে সার্স বাহিনী আরও বেশি ঘৃণিত হয়ে পড়ে দেশটির জনগণের কাছে। যার পরিণতিতে সর্বশেষ ঘটনায় করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই বিক্ষোভ শুরু করে নাইজেরিয়ার মানুষ।
পড়ুন:
