সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর সামনের দ্বিতীয় তলার বারান্দার পলেস্তারা বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ খসে পড়ে। এ সময় বিচারকের এজলাস কক্ষে বিচার চলছিল। আর সামনের বারান্দায় বাদী ও সাক্ষীসহ বিচার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে অবস্থান করছিলেন। পলেস্তারা খসে মাথায় পড়ে আহত হন মামলার বাদী ও একজন আইনজীবীর সহকারী।
এরা হলেন- বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলা শাখা অফিসের কর্মকর্তা ও নাটোর জেলার বাসিন্দা মো. শরিফুল ইসলাম (৫০) ও আইনজীবীর সহকারী সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের দিয়ার ধানগড়া মহল্লার আবির হোসেন (২২)। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শরিফুল ইসলামকে এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বেঞ্চ সহকারী শাহাদত হোসেন খান বলেন, আদালতে একটি মাদক মামলার শুনানি চলছিল। এজলাসের বাইরের বারান্দায় অন্য মামলার বাদী ও সাক্ষীরা অবস্থান করছিলেন। দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই ছাদের বেশ কিছু অংশের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে দুজন আহত হয়।
এ বিষয়ে একাধিক আইনজীবী, আইনজীবী সহকারী ও বিচারপ্রার্থী বলেন, আদালত ভবনটির ছাদের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের পলেস্তারার রডগুলোতে মরিচা পড়েছে। কয়েক বছর আগেও ভবনটির নিচতলার ছাদের অংশবিশেষ খসে পড়েছিল। এ ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তারপরেও প্রাণহানির শঙ্কা নিয়েই প্রতিদিন শত শত মানুষ বাধ্য হয়ে এখানে আসেন।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর নাজির, নূর হোসেন বলেন ১৯৮৭ সালের শেষের দিকে এ ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল। এটির বয়স প্রায় ৩৩ বছর। ফলে এ ভবনের বিভিন্ন স্থানের পলেস্তারা এখন খসে খসে পড়ছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ছাদের পলেস্তারার মাঝখানে বাতাস ঢুকে রড গুলোতে মরিচা ধরে গেছে। এ কারণেই ছাদের এ অংশ খসে পড়েছে। খুব দ্রুত এটা এখন সংস্কার করা প্রয়োজন।
