আইপিএলের কল্যাণে রবিবার একদিনেই তিন সুপার ওভার দেখেছে দর্শক। কলকাতা নাইট রাইডার্স ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মধ্যকার দিনের প্রথম ম্যাচ সুপার ওভারে নিষ্পত্তি হয়। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মধ্যকার দ্বিতীয় ম্যাচে তো সুপার ওভারও টাই হওয়ায় দ্বিতীয় সুপার ওভারে ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়েছে।
এরপর থেকে চর্চা শুরু হয়, ক্রিকেটে একদিনে তিন সুপারের ঘটনা কি এই প্রথম? ইতিহাস বলছে, একদিনে তিন সুপার ওভার আগেও দেখেছে ক্রিকেট।
তবে বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টিতে একদিনে জোড়া সুপার ওভারের নজির কার্যত হাতগোনা। আর একদিনে তিনটি সুপার ওভার তো আরো দুর্লভ। রবিবারের আগ পর্যন্ত সেই সংখ্যাটা ছিল মাত্র এক।
২০০৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের (স্ট্যান্ডার্ড ব্যাঙ্ক প্রো২০ সিরিজ) দুটি সেমিফাইনালই সুপার ওভারে গড়িয়েছিল। তাও সেটি ছিল তৃতীয় লেগের সেমিফাইনাল। প্রথম দুই লেগে চারটি দলই একটি করে ম্যাচ জিতেছিল। ১৮ ফেব্রুয়ারি ওয়ারির্স বনাম ইগলসের ম্যাচ সুপার ওভারে গড়ায়। তাতে সহজেই জিতেছিল ইগলস।
সেদিনই কেপ কোবরাস এবং ডলফিনের ম্যাচও নির্ধারিত ৪০ ওভারে শেষ হয়নি। সুপার ওভারে ম্যাচ জিতেছিল গ্রায়েম স্মিথ, হার্শেল গিবসদের কেপ কোবরাস।
সেদিনই আবার নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে ক্যান্টারবারি উইজার্ড এবং নর্দান নাইটসদের ম্যাচের ফয়সালা হয়েছিল সুপার ওভারে। ম্যাচ জিতেছিল উইজার্ড।
এরপর ক্রিকেট ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো রবিবার একইদিনে তিনটি সুপার ওভারের নজির তৈরি হয়।
আইপিএলে দিনের প্রথম ম্যাচে ৪০ ওভার শেষে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোর দাঁড়ায় ১৬৩। কিউই পেসার লকি ফার্গুসনের দাপটে অনায়াসে ম্যাচ জিতে যায় কলকাতা। পরে সন্ধ্যার ম্যাচে নির্দিষ্ট ৪০ ওভারেও ম্যাচ জিততে পারেননি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স বা কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। ফলে স্বভাবতই সুপার ওভার হয়। কিন্তু প্রথম সুপার ওভারেও ফয়সালা হয়নি। দুই দলের স্কোর সমান হয়। পরে দ্বিতীয় সুপার ওভারে ম্যাচ জিতে নেয় পাঞ্জাব।
তবে আগেও আইপিএলে সুপার ওভার অমীমাংসিত থাকার নজির আছে। ২০১৪ সালে আবুধাবিতেই সুপার ওভারে রাজস্থান রয়্যালস ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোর সমান ছিল।
তখনকার নিয়ম অনুসারে বেশি বাউন্ডারির জন্য রাজস্থানকে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। নতুন নিয়মে অবশ্য দ্বিতীয়বারও সুপার ওভারের সুযোগ আছে।
