ডেটলাইন ২৫ অক্টোবর শারজা : সপ্তম স্বর্গে আকিব

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১২:৩৬ এএম

ক্রিকেটে সফল পেস বোলারদের তালিকাটা অনেক দীর্ঘ। সে তালিকায় আকিব জাভেদ নামটা হয়তো অনেক পেছনে। এমনকি পাকিস্তানি গ্রেট পেসারদের তালিকা করা হলেও সবাই ওয়াসিম আকরাম, ইমরান খান, ওয়াকার ইউনিস ও শোয়েব আকতারদের নাম বলবেন। চট করে আকিব জাভেদের নামটা কি মুখে আসবে! অথচ ক্রিকেট ইতিহাসে যে উচ্চতায় তিনি উঠেছেন তা আর কারও পক্ষে কখনই ছোঁয়া সম্ভব নয়। কারণ আকিব জাভেদই প্রথম একদিনের ক্রিকেটে সাত উইকেট নেওয়া বোলার। ১৯৯১ সালের ২৫ অক্টোবর শারজায় ভারতের বিপক্ষে উইলস কাপ ফাইনালে তার নেওয়া ৩৭ রানে ৭ উইকেট দীর্ঘদিন ওয়ানডেতে সেরা বোলিং ফিগার ছিল।

আকিবের কীর্তির ৯ বছর পর ২০০০ সালে মুত্তিয়া মুরালিধরন ৩০ রানে ৭ উইকেট নেন। সেটিও ছিল ভারতের বিপক্ষে সেই শারজাতেই। আর কোনো পেসার হিসেবে ওয়াকার ইউনিস আকিবের কীর্তির ১০ বছর পর আবার ৭ উইকেট নেন। সেটি ছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিডসে ৩৬ রানে ৭ উইকেট। সে বছরই ডিসেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চামিন্দা ভাস মাত্র ১৯ রানে ৮ উইকেট নিয়ে ওয়ানডেতে সেরা বোলিংয়ের ইতিহাস গড়েন। এখনো ভাসের কীর্তিই রেকর্ড হিসেবে অটুট আছে।

শারজার সেই ম্যাচে অভিষেকের ৩৮ ম্যাচ পর ১৯ বছর বয়সী আকিবের বিধ্বংসী বোলিংয়ে হেরেছিল আজহারউদ্দিনের ভারত। আগে ব্যাট করে পাকিস্তান জাহিদ ফজলের ৯৮ ও সেলিম মালিকের ৮৭ রানে ৬ উইকেটে ২৬২ রান তোলে। জবাবে ভারত ১৯০ রানে অলআউট হয়ে ফাইনাল হারে ৭২ রানে। ম্যাচে ৭ উইকেট নেওয়া আকিব হ্যাটট্রিকও করেছিলেন। নিজের তৃতীয় ওভারে প্রথমে রবি শাস্ত্রি, পরে আজহারউদ্দিন ও শেষে শচিন টেন্ডুলকারকে আউট করেন। তিনটিই এলবিডব্লিউতে। হ্যাটট্রিকে তিনটি এলবিডব্লিউ আউটের ঘটনাও সেই একবারই ঘটেছে। আকিবের সেই হ্যাটট্রিক ততদিন পর্যন্ত ছিল ওয়ানডেতে সপ্তম। এরপর আরও ৪২ হ্যাটট্রিক হয়ে গেছে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে। শাস্ত্রি ছাড়া অপর ওপেনার নভজোত সিং সিধুসহ সঞ্জয় মাঞ্জরেকার, কপিল দেব, মনোজ প্রভাকরকেও আউট করেছিলেন আকিব। এক নম্বর ব্যাটসম্যান থেকে শুরু করে আট নম্বর ব্যাটসম্যানের মধ্যে সাতজনই ছিলেন তার শিকার। একমাত্র বিনোদ কাম্বলি রানআউট হন। একদিক থেকে দেখলে ভারতের ব্যাটিং লাইন লোয়ার অর্ডারের আগ পর্যন্ত পুরোটাই আকিবের শিকার ছিল সেদিন।

মাত্র ১৩ বছর বয়সে ঘরোয়া ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন আকিব। জাতীয় দল তার স্বপ্ন থেকেও বহুদূরে ছিল তখন। কারণ, ওই সময় ইমরান খানের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে এগিয়ে চলছেন ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনিস। কিন্তু সৌভাগ্য আকিবের যে, তিন বছরের মধ্যেই জাতীয় দলে নাম লেখান। ১৯৮৮ সালে ১৬ বছর ১২৭ দিনে অ্যাডিলেডে উইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষেক আকিবের। প্রথম ম্যাচে ৪৯ রানে নেন ১ উইকেট। ওয়ানডেতে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটারদের তালিকার সপ্তম অবস্থানে এই পাকিস্তানি পেসার।

আকিবের বিধ্বংসী স্পেলের সেই ম্যাচের পর তিন বছর শারজাতে পাকিস্তানের সঙ্গে খেলেনি ভারত। প্রচলিত ছিল সেই মাঠে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে খেললেই হারে তারা। ফলাফলও তাই বলে। তিন বছর পর অস্ট্রেলেশিয়া কাপে আবার যখন মুখোমুখি হয় দুই দল তখনো পাকিস্তানের কাছে দুই ম্যাচেই হেরেছিল ভারত। সার্বিকভাবে শারজাতে দু’দলের মোট ২৮ ম্যাচের ১৯টিই জিতেছে পাকিস্তান। ভারতের জয় মাত্র ৯টিতে।

১৯৯২ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হয়ে সফলভাবে বোলিং ওপেন করেছেন আকিব। দলকে বিশ্বকাপ জেতাতেও দারুণ ভূমিকা ছিল তার। নিয়েছিলেন ১০ ম্যাচে ১১ উইকেট। ক্যারিয়ারের অনেকটা সময় ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনিসের ছায়ার থেকে খেলতে হয়েছে আকিবকে। তবুও ১৬৩ ওয়ানডে খেলে ১৮২ উইকেট নিয়েছেন। আর ২২ টেস্টে নিয়েছেন ৫৪ উইকেট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত