ভেস্তে গেল আজারবাইজান-আর্মেনিয়ার তৃতীয় যুদ্ধবিরতিও

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০১:৪৮ পিএম

নাগোর্নো-কারাবাখের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুদ্ধে বিবাদমান দুই পক্ষের তৃতীয় যুদ্ধবিরতি চুক্তিও কোনো কাজে এল না। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিটি কার্যকর হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে উভয় পক্ষ ফের আক্রমণ চালিয়েছে বলে খবর এএফপি’র।

আগের দুইবারের মতোই যুদ্ধ বিরতি লঙ্ঘনের জন্য একে-অপরকে দায়ী করছে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া।

এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় যুদ্ধ বিরতি কার্যকর হওয়ার এক ঘণ্টার কম কময়ের মধ্যে তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে।

আজারবাইজান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়াশিংটনে আলোচনার ভিত্তিতে যুদ্ধ বিরতি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের তেরতের শহর ও এর আশপাশ এলাকায় গোলাবর্ষণ করে ‘যুদ্ধবিরতির গুরুতর লঙ্ঘন করে’ আর্মেনিয়াবাহিনী।

অন্যদিকে, আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন এলাকায় গোলাবর্ষণ করে যুদ্ধবিরতির ‘ব্যাপক লঙ্ঘন করেছে’ আজারবাইজান বাহিনী।

সেই সঙ্গে আর্মেনিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকোল পাশিয়ান ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, হামলা সত্ত্বেও তার বাহিনী ‘কঠোরভাবে’ যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে।

কারাবাখের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার মুখপাত্র ভারহাম পোগোসায়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন- “তৃতীয়বারের মতো মানবিক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে আজারবাইজানবাহিনী। এখন আমাদের কাজ আমাদের মাতৃভূমিকে রক্ষা করা...এ ছাড়া আমাদের কোনো পথ নেই।”

এদিকে, আজারবাইজান প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র হিকমাত হাজিয়েভ এক বিবৃতিতে বলেছেন, আর্মেনিয়া বর্তমান ও আগের দুটি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তাদের লক্ষ্য এই অবস্থাটা ধরে রাখা। আজারবাইজান বাহিনী প্রতিরক্ষা করে যাচ্ছে।”

চলতি মাসের শুরুতে এর আগে রাশিয়ার মধ্যস্থতায় দুই দফায় যুদ্ধ বিরতিতে সম্মত হয়েও কয়েক মিনিটের মধ্যে তা লঙ্ঘন করে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া।

নাগোর্নো-কারাবাখ আজারবাইজানের মধ্যে অবস্থিত হলেও আর্মেনীয় নৃগোষ্ঠীর লোকজন অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। আর আর্মেনিয়া তাদেরকে সমর্থন দিচ্ছে। ১৯৯০ দশকে যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অঞ্চলটি আজারবাইজান থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও এই অঞ্চলটিকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি কোনো দেশ।

বিতর্কিত ভূখণ্ড নিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বরে থেকে ফের যুদ্ধে লিপ্ত হয় সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দুই দেশ আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া। চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে উভয় পক্ষের ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত