পরিচালক হিসেবে প্রথমবারের মতো কোনো সম্মাননা অর্জন করলেন চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনয়শিল্পী আলমগীর। তিনি এবছর পরিচালক হিসেবে‘ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার ২০২০’পেয়েছেন।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ফজলুল হক স্মৃতি কমিটির উদ্যোগে সোমবার দুপুরে চ্যানেল আই কার্যালয়ে আয়োজন করা হয় ‘১৭তম ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার ২০২০’ প্রদান অনুষ্ঠানের।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি গীতিকবি গাজী মাজহারুল আনোয়ার, নাট্যজন নাসির উদ্দীন ইউসুফ, পরিচালক সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকীসহ ফজলুল হকের স্নেহধন্য অনেকে। অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন ফজলুল হকের মেয়ে রন্ধনশিল্পী কেকা ফেরদৌসী।
ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার নিয়ে আলমগীর বলেন, ফজলুল হক সাহেব একজন নিবেদিতপ্রাণ চলচ্চিত্রের মানুষ ছিলেন। তাঁর পরিচালিত প্রথম সিনেমা “প্রেসিডেন্ট” আমি প্রেক্ষাগৃহে বসেই দেখেছিলাম। আমাদের চলচ্চিত্রে তার অবদান নিয়ে নতুন করে বলার তো কিছু নেই।
ফজলুল হকের স্মৃতি রক্ষায় প্রতিবছর আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও একজন চলচ্চিত্র সাংবাদিককে সম্মাননা জানানো হয়। কিন্তু এ বছর করোনাভাইরাস প্রকোপের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ছোট পরিসরে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।
পরিচালক হিসেবে আলমগীর ও চলচ্চিত্র সাংবাদিক হিসেবে শামীম আলম দীপেনকে উত্তরীয়, সম্মাননাপত্র, ক্রেস্টসহ নগদ অর্থমূল্য ২৫ হাজার টাকা তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ও প্রথম চলচ্চিত্রবিষয়ক পত্রিকা ‘সিনেমা’র সম্পাদক এবং বাংলাদেশের প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘প্রেসিডেন্ট’-এর পরিচালক প্রয়াত ফজলুল হক স্মরণে ২০০৪ সাল থেকে এ পদক প্রদান করা হচ্ছে। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন এই পদক প্রবর্তন করেছেন। ফজলুল হক স্মৃতি কমিটি প্রতিবছরই দুজন ব্যক্তিত্বকে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। এর আগে এ পদক পেয়েছেন আমজাদ হোসেন, সাইদুল আনাম টুটুল, ফজল শাহাবুদ্দীন, চাষী নজরুল ইসলাম, আহমদ জামান চৌধুরী, হুমায়ূন আহমেদ, রফিকুজ্জামান, সুভাষ দত্ত, হীরেন দে, সৈয়দ শামসুল হক, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, নায়করাজ রাজ্জাক, কোহিনূর আক্তার সুচন্দা, আবদুল লতিফ বাচ্চু প্রমুখের মতো ব্যক্তিত্বরা।
ফজলুল হক ১৯৩০ সালে ২৬ মে বগুড়ার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন তাঁর সহধর্মিণী। জ্যেষ্ঠ পুত্র ফরিদুর রেজা সাগর বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক, টিভি ব্যক্তিত্ব এবং চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ছোট ছেলে ফরহাদুর রেজা বাংলাদেশ টেলিভিশনের একসময়ের জনপ্রিয় উপস্থাপক ও বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী স্থপতি। বড় মেয়ে কেকা ফেরদৌসী বিশিষ্ট রন্ধনবিদ ও ছোট মেয়ে ফারহানা মাহমুদ।
ফজলুল হক ১৯৯০ সালের ২৬ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।
