নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার নতুন মুহতামিম (পরিচালক) হিসেবে শায়খুল হাদিস হাবিবুর রহমান কাসেমীকে মনোনীত করা হয়েছে। তিনি হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর অনুসারী।
এ মাদ্রাসায় নায়েবে মুহতামিম করা হয়েছে মাওলানা ইয়াহিয়া ও মুঈনে মুহতামিম মওলানা ইসমাইলকে। এ ছাড়া মাদ্রাসা থেকে মাওলানা সলিম উল্লাহসহ ১৩ শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত শিক্ষকরা হলেন, মাওলানা সালাহ উদ্দীন, মুফতি হাশেম, মাওলানা মিজান, মাওলানা নুরুল আলম নছরি, মাওলানা মাহফুজুর রহমান, হাফেজ ইদ্রিস, হাফেজ আব্দুল কাদের, মাওলানা ইয়াছিন, মাওলানা আলী আকবর, আমির হোসেন, মাওলানা আব্দুর রহিম, মাওলানা হারুনর রশিদ।
বুধবার দুপুর ২টায় নাজিরহাট মাদ্রাসায় শূরার বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সকাল ১১টা থেকে শুরু হয় এ বৈঠক। বৈঠকে নাজিরহাট মাদ্রাসার মুতাওয়াল্লি করা হয় আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে। শিক্ষা সচিব করা হয় হাবিবুল্লাহ নদভীকে। ঢাকার খীলগাও মাদ্রাসার মুহতামিম নুরুল ইসলাম জিহাদী শূরার বৈঠক শেষে নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করেন।
শূরার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, পটিয়া মাদ্রামার মুহতামিম আবদুল হালিম বোখারী, জিরি মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা খোবাইব, ওলিহা মসজিদের সাবেক খতিব মাওলানা আনোয়ার, খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী মাওলানা ওমর ফারুক, মেখল মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা নোমান ফয়েজী, হাটহাজারী মাদ্রাসার মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী, বাবুনগর মাদ্রাসার মুহতামিম মহিবুল্লাহ বাবুনগরী, ওবাইদিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম সালাউদ্দিন, ঢাকার বসুন্ধরা মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আরশাদ রহমান, খীলগাও মাদ্রাসার মুহতামিম নুরুল ইসলাম জিহাদী, তালিমুদ্দিন মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ কাসেম, নাজিরহাট মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত মুহতামিম হাবিবুর রহমান কাসেমী, ফতেপুর মাদ্রাসার মুহতামিম মাহমুদুল হাসান। উপস্থিত হননি চারিয়া মাদ্রাসার মাওলানা আবদুল্লাহ, হাটহাজারী মাদ্রাসার প্যানেল মুহতামিম মুফতি শেখ আহমেদ।
এর আগে মাদ্রাসার পরিচালক পদ নিয়ে দুই পক্ষে মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। এ নিয়ে মারামারি, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, মামলার ঘটনাও ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ‘মুহতামিম’ দাবিদার মাওলানা সলিমুল্লাহ এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন শনিবার দুপুরে। এ সময় ছাত্রদের একাংশ মাওলানা সলিমুল্লাহকে ‘মুহতামিম মানি না, শূরা চাই, শূরা চাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে ছাত্রদের একটি অংশ স্লোগানধারীদের সরিয়ে দিতে চাইলে উভয়পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, মাদ্রাসার পরিচালক বা মুহতামিমের পদ নিয়ে মাওলানা সলিমুল্লাহ ও মাওলানা হাবিবুর রহমান কাসেমীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। সলিমউল্লাহ মরহুম আহমদ শফির অনুসারী। অন্যদিকে হাবিবুর রহমান হেফাজতের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর অনুসারী।
