যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে কৃষক নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১২:১৪ এএম

পাবনার সাঁথিয়ায় উপজেলা যুবলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে বিলে মাছ ধরায় এক কৃষককে ‘অপহরণ’ করে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। সন্ত্রাসীদের হুমকিতে গ্রামের বাইরে আসতে ভয় পাচ্ছে গ্রামবাসী।

সাঁথিয়ার হাঁড়িয়াকাহন গ্রামের সোনাই বিলে গিয়ে দেখা যায়, বর্ষার পানিতে ডুবে আছে বিলটি। স্থানীয়রা জানায়, কৃষিপ্রধান এ গ্রামে শুষ্ক মৌসুমে চাষাবাদ আর বর্ষায় পানিতে জমি নিমজ্জিত হলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে গ্রামবাসী। তবে গত কয়েক বছর ধরে শান্ত, সুনিবিড় গ্রামটির দরিদ্র চাষিদের মনে শান্তি নেই। মৎস্যজীবী কালীপদ হালদারের নামে ইজারা নেওয়া বিল উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আশরাফুল আলম টুটুল দখলে নেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। নিজের জমিতে মাছ ধরলেও টুটুল বাহিনীর রোষানলে পড়তে হয় তাদের।

হাঁড়িয়াকাহন গ্রামের কৃষক মনসুর আলী বলেন, বন্যার পানির কারণে চার থেকে পাঁচ মাস আমাদের জমিতে চাষাবাদ করতে পারি না। এখন বন্যার পানি মাঠ থেকে নেমে আসছে, তাই আমরা মাঠে মাছ ধরার জন্য জাল পেতেছিলাম। কিন্তু যুবলীগের লোকেরা জলাশয়টি দখলে নেওয়ার কারণে মাছ ধরতে বাধা দেয়। তিনি বলেন, আমরা খাওয়ার জন্য শুধু তাদের চোখ এড়িয়ে মাছ ধরছি, বিক্রি করার জন্য মাছ ধরতে পারছি না।

গ্রামের বাসিন্দা ও বিলের জমির মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, মাছ ধরতে গেলেই টুটুলের শ্বশুর বাবুল হোসেনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আমাদের জাল নষ্ট করে দেয়। তাদের হুমকির কারণে আমরা নিজস্ব জমিতে যাওয়ারও সাহস পাই না।

সম্প্রতি টুটুলের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নিজের জমিতে মাছ ধরেন কৃষক মাসুদ হোসেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে টুটুলের সন্ত্রাসী বাহিনী অস্ত্রের মুখে সাঁথিয়া হাট থেকে মাসুদকে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে রাতভর নির্যাতনের পর বাজারে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনায় সাঁথিয়া থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

ভুক্তভোগী মাসুদ বলেন, ‘গত ১৯ অক্টোবর সাঁথিয়া সদরের সাঁথিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে চককোনাবাড়িয়া গ্রামের ফজর আলী কসাইয়ের ছেলে আজিজল, নন্দনপুরের বক্কার পীরের ছেলে আশরাফুল আলম ও বাবুল হোসেন, তেথুলিয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে মতিউর রহমান, আবদুল মতিনের ছেলে শাকিল হোসেন আমাকে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে উঠিয়ে নিয়ে যায় নন্দনপুরের সাইফুল ইসলামের বসতবাড়ির উত্তর পাশের আশরাফুল আলমের ডিশ লাইন অফিস ঘরের মধ্যে। আশরাফুলের নির্দেশে তারা মারধর করে আমার কাছ থেকে ৫৭ হাজার ২০০ টাকা কেড়ে নেয় এবং ঘরের মধ্যে আটকে রেখে মারধর করে। এরপর সাঁথিয়া উপজেলা যুবলীগ সভাপতি টুটুলের তেথুলিয়া গ্রামের বাড়িতে নিয়ে সেসহ সবাই মিলে মারধর করে।’

মাসুদ রানা আরও বলেন, ঘটনার পর হাসপাতালে ভর্তি হই। কিছুটা সুস্থ হলে ভাই মিল্টনের সঙ্গে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড না করে বারবার ঘোরাচ্ছে পুলিশ।

তবে যুবলীগ সভাপতি আশরাফুল আলম টুটুল নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাউকে অপহরণ কিংবা নির্যাতন করিনি। বরং যারা তুলে এনেছিল তাদের বুঝিয়ে মাসুদকে উদ্ধার করেছি।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জামাল আহমেদ বলেন, কারও নিজস্ব জমিতে মাছ ধরতে বাধা দেওয়া বেআইনি। আমার কাছে কোনো পক্ষই অভিযোগ নিয়ে আসেনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত