রাবিতে স্মৃতিফলক নির্মাণে দুর্নীতিতে জড়িত শিক্ষকদের বহিষ্কার দাবি

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০৪:২৯ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা শিক্ষকদের চাকরি থেকে বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্যমঞ্চ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।  

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন।

কর্মসূচিতে অভিযোগ ওঠা শিক্ষকদের 'দুর্নীতিবাজ' এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের চাকরি থেকে বহিষ্কার করে যথাযথ শাস্তির আওতায় আনতে সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানান বক্তারা। 

এ সময় বক্তারা বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকের রিলিফ ভাস্কর্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ছিল না। মূল কাজে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। ভাস্কর্যে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের বাঁ পাশে এবং নিচে বঙ্গবন্ধুর রিলিফ ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জাতির পিতাকে অবমাননা করা হয়েছে। যেটি কোনো প্রগতিশীল শিক্ষকদের কাজ হতে পারে না। 

তারা আরও বলেন, স্মৃতিফলকটি নির্মাণে ১৪শ কেজি তামার ব্যবহার করার কথা ছিল। যার মূল্য ধরা হয়েছিল ১৪ লাখ টাকা। অথচ সেখানে মাত্র ৪৯২ কেজি তামা ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও স্মৃতিফলকে টেম্পার্ড গ্লাস ব্যবহার করার কথা থাকলেই তা করা হয়নি।

বক্তারা এ সময় এসব অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রভাষক এ এন এম ফয়সাল আহমেদের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক ড. গোলাম সারওয়ার, ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষক আসাদুজ্জামান, চারুকলা অনুষদের শিক্ষক ড. হুমায়ুন কবির, হল প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক ড. রবিউল ইসলাম, রাবি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাহফুজ-আল-আমিন, রাবি শাখা বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাবি শাখা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাবেক সভাপতি ও এম ফিল ফেলো মতিউর মর্তুজা প্রমুখ। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক ড. শামীম হোসেন।

উল্লেখ্য, বছরজুড়ে রাবির বর্তমান ভিসি অধ্যাপক আব্দুস সোবহান ও সাবেক ভিসি অধ্যাপক মিজানউদ্দিনের অনুসারী শিক্ষকরা একে অপরের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ করে আসছিলেন।

এরই মধ্যে অধ্যাপক মিজানউদ্দিনের অনুসারী শিক্ষকদের করা বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা পায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন।

এরপর থেকে অধ্যাপক মিজানউদ্দিনের অনুসারী শিক্ষকদের মধ্যে অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত থাকা শিক্ষকদের বহিষ্কার দাবি জানিয়ে আসছে অধ্যাপক আব্দুস সোবহানের অনুসারীরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত