শীতে করোনা মোকাবিলায় বাগেরহাটে প্রস্তুত ৫০ শয্যার হাসপাতাল

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২০, ০৩:১০ পিএম

বাগেরহাটে আসন্ন শীত মৌসুমে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সংক্রমিত রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ৫০ শয্যার ডেডিকেটেড হাসপাতাল চালু করেছে।

এই হাসপাতালে পর্যাপ্ত সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট ও দশটি আইসিইউ শয্যা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

দ্বিতীয় পর্যায়ে করোনার ঢেউ আসার আগেই এসব ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগের কথা জানাচ্ছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

করোনা সংক্রমণ রোধে দ্বিতীয় ধাপ শুরুর আগেই সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলে মনে করেন স্থানীয় স্বাস্থ্য সচেতনমহল।

বাগেরহাটের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কে এম হুমায়ুন কবির এই প্রতিবেদককে বলেন, আসন্ন শীতে দ্বিতীয় পর্যায়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই আভাস আমরা বিভিন্ন সূত্র থেকে পাচ্ছি। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আমরা এখনই প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের প্রথম পর্যায়ে কিন্তু মুখে মাস্ক ব্যবহার ও নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার কারণে সংক্রমণের হার অনেক ছিল। সে কারণে এখন সরকার মুখে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। মুখে মাস্ক না থাকলে সরকারি দপ্তরে সেবা পাবেন না সাধারণ মানুষ। সাধারণ মানুষ যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সে জন্য এখন থেকে স্টিকার ও লিফলেট দিয়ে সচেতন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। মুখে মাস্ক না থাকলে আমরা হাসপাতালে কোনো রোগীকে সেবা দিচ্ছি না।

তিনি আরও জানান, জেলার হাসপাতালগুলোকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন তিনটি জোনে ভাগ করে রোগীদের সেবা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। বাগেরহাট সদর হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য ৫০ শয্যার আইসোলেশন ছিল। রোগীদের জন্য সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পর্যাপ্ত অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুদ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি একটি অক্সিজেন প্লান্ট তৈরি করা হচ্ছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তা স্থাপনের কাজ শেষ হবে। এটি হয়ে গেলে করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের আর অক্সিজেন সংকট হবে না। সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য দশ শয্যার আইসিইউ স্থাপনের কাজও চলমান রয়েছে। এটি হয়ে গেলে এসব রোগীদের আমরা উন্নত চিকিৎসাসেবা দিতে পারব। বাইরে কোথাও উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠাতে হবে না।

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, বাগেরহাটের ৫০ শয্যার ডেডিকেডেড করোনা হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসার জন্য ১২ জন আলাদা চিকিৎসক নিয়োগ করা আছে। তারা করোনা রোগীদেরই চিকিৎসা করবে।

বাগেরহাট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আহাদ উদ্দিন হায়দার বলেন, গত মার্চ মাসে যখন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয় তখন তা রোধে বাগেরহাটে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নানা ধরনের সচেতনতামূলক কাজ করে। যার কারণে এই জেলায় মানুষের মধ্যে সংক্রমণ শুরুতে অনেক কম ছিল। পরে তা বাড়তে থাকে।

এই জেলায় প্রশাসনের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাধারণ মানুষসহ প্রায় ২৫ জনের মৃত্যু হয়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে যেহেতু এখনো কোন প্রতিষেধক বাজারে আসেনি তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই একমাত্র উপায়। তাই বাগেরহাটে আসন্ন শীত মৌসুমে যাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকে সে জন্য সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানাব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত