পশ্চিম তুরস্কের ইজমিরে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের চতুর্থ দিনে ধ্বংসাবশেষ থেকে তিন বছর বয়সী এক জীবিত শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা একশো ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারি কর্মকর্তা ও বার্তা সংস্থা এএফপি।
ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ইজমিরের বেরাকলি শহরের একটি ভবনের ধ্বংসাবশেষ থেকে আইদা নামে এক মেয়ে শিশুকে উদ্ধার করা হয়। টুইট করে আশ্চর্যজনক খবরটির নিশ্চিত করেছেন শহরের মেয়র টুন্ক সোয়ের।
“ভূমিকম্পের ৯১তম ঘণ্টায় আমরা একটি মিরাকলের সাক্ষী হলাম। উদ্ধারকারী দল আইদাকে জীবিত উদ্ধার করেছে। চরম দুঃখের মধ্যে আমরা আনন্দের খবরও পেলাম।”
প্রাথমিকভাবে মেয়র সোয়ের জানিয়েছিলেন, আইদার বয়স চার। কিন্তু পরে তুরস্কের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফারেন্তিন কোকে জানিয়েছেন, শিশু মেয়েটির বয়স তিন।
নিরাপদ উপায়েই তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। ফয়েল দিয়ে মুড়িয়ে তাকে বের করে আনা হয়। উদ্ধারের পর পরই শিশুটি তার মাকে ডাকছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী এএফপি’র এক ফটো সাংবাদিক।
আইদাকে উদ্ধার করে আনার মুহূর্তে জড়ো হওয়া মানুষজন আনন্দে ফেটে পড়েন। একে-অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। কারও কারও চোখে আনন্দ অশ্রুও দেখা যায়।
উদ্ধারকর্মীরা জানান, সোমবার রাতের দিকে তারা বুঝতে পারেন যে, ভবনটির ধ্বংসাবশেষের নিচে জীবিত কেউ আছে। এরপর তারা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। যখন উদ্ধারকাজ চলছিল, শিশুটি ‘আমি এখানে’ বলে সারা দেয়।
গত শুক্রবার আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ জন। ১০২৬ জন মানুষ। এর মধ্যে ১৪৩ জন এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে তুরস্কের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এএফএডি জানিয়েছে।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদুলু এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার ওই ভূমিকম্পের পর মোট ১৪৭৫ বার ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪টি ভূ-কম্পনের মাত্রা ছিল ৪ এর ওপরে।
ভূতাত্ত্বিক চ্যুতি থাকার কারণে তুরস্কের উপকূল ভূমিকম্প প্রবণ; ১৯৯৯ সালে দেশটির উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
এবারের ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল সামোসের উত্তর পূর্বে এজিয়ান সাগরে।
