গুজব রটিয়ে দেশে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সমাজের শুভবোধ সম্পন্ন মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের আহ্বান জানিয়েছে সম্প্রীতি বাংলাদেশ।
সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় শঙ্কা প্রকাশ করে সংগঠনের এক বিবৃতিতে মঙ্গলবার এ আহ্বান জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, অতীতের বেশ কিছু ঘটনার মতো আবারও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অপব্যবহার করে নানা রকম গুজব এবং সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়ানোসহ নানা ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা জনজীবনকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, কোথাও কোথাও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ও এই অস্থিরতা এবং অনিশ্চয়তার শিকার হচ্ছে। দুষ্কৃতকারীরা অশুভ উদ্দেশ্য হাসিল করতে এমন ঘটনা ঘটাচ্ছে- এই আশঙ্কাও অমূলক নয় বলে মনে করে সম্প্রীতি বাংলাদেশ।
দেশের সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করে একটি মহল সংঘাত সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সম্প্রীতি বাংলাদেশ এই সংঘাত সৃষ্টির পাঁয়তারা সম্পর্কে সচেতন থাকতে দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গুজব সৃষ্টি বা গণপিটুনির মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে হাইকোর্টের চার দফা নির্দেশনা রয়েছে। কোনো ধরনের গুজব বা উসকানিমূলক বক্তব্যে কান না দেওয়ার জন্য এরই মধ্যে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সরকার। কেউ যদি গুজব রটায়, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রীতি বাংলাদেশ আশা করে সব ধর্মের সমন্বয়ে মানবিক বোধসম্পন্ন সচেতন মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় সব ধরনের সামাজিক অস্থিরতা দূর হবে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন- সম্প্রীতি বাংলাদেশ’র আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, সদস্য সচিব ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল, সংগঠনের উপদেষ্টা অধ্যাপক আবদুল মান্নান, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, যুগ্ম-আহ্বায়ক আরমা দত্ত এমপি, মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব.), মেজর জেনারেল জন গোমেজ (অব.), সাবেক রাষ্ট্রদূত এ কে এম আতিকুর রহমান, অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, অধ্যাপক আ ব ম ফারুক, অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া, সাবেক সচিব নাসিরউদ্দিন আহমেদ, কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. নুজহাত চৌধুরী, জয়শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়, মো. হেলালউদ্দিন. সাইফ আহমেদ, বিপ্লব কুমার পাল, মিহির কান্তি ঘোষাল, তাপস হালদার, অনয় মুখার্জী, বরুণ ভৌমিক নয়ন, সলিমুল্লাহ সেলিম, আশরাফ আলী, কল্যাণ সাহা, কুদ্দুস আফ্রাদ, রেভারেন্ড মার্টিন অধিকারী, ড. বিমান চন্দ্র বড়ুয়া, ড, অসীম সরকার, ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, বেলাল হোসাইন প্রমুখ।
