২২ দিন পর আবারও নিজ ঠিকানায় ফিরছেন পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকার অর্ধলক্ষাধিক জেলে। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষে ইলিশ ধরার আশায় আজ বুধবার মধ্যরাত থেকে তারা যাত্রা শুরু করবেন গভীর সাগরে। এর ফলে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে দক্ষিণের বৃহৎ মাছের মোকাম আলীপুর-মহিপুরের আড়তগুলোতে। মৌসুমের শুরুতে আশানুরূপ না পেলেও এবার জালে মিলবে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ এমন স্বপ্ন, প্রত্যাশা জেলেদের।
২০০৬ সাল থেকে মা ইলিশের বাঁধাহীন প্রজননসহ সব প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মৎস্য অধিদপ্তর। এ সময় সব ধরনের মাছ শিকার, পরিবহন, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকে। এ সময়টায় পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা তাদের ট্রলার, জাল মেরামতের পাশাপাশি ইঞ্জিনের কাজে মনোযোগী থাকেন।
আলীপুরের রুহুল আমিন মাঝিসহ একাধিক জেলে জানান, চলতি মৌসুমে আশানুরূপ ইলিশ না পেয়ে উপকূলের জেলেরা দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় ইলিশ ধরার সব প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষায় আছেন তারা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আজ রাতেই সমুদ্রে যাবেন।
অন্যদিকে আজ বুধবার মধ্যরাত থেকে ২২ দিন নিষেধাজ্ঞার পর নদীতে ইলিশ ধরতে নামবেন চাঁদপুরের জেলেরা। নিষেধাজ্ঞার সময়ে নৌকা মেরামত আর জাল বোনায় ব্যস্ত সময় কেটেছে তাদের। ওই সময় মাছ ধরতে না পারায় মানবেতর জীবনযাপন করেছেন তারা। তাই নিষেধাজ্ঞা শেষে পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ ধরতে মুখিয়ে আছে তারা।
চাঁদপুরের হানারচর, পুরানবাজার ও বহরিয়া এলাকার জেলেরা বলেন, আজ রাত থেকে আমরা নদীতে ইলিশ ধরতে নামব। নিষেধাজ্ঞার সময়ে মাছ ধরতে না পারায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে। সংসার খরচ চালাতে গিয়ে বিভিন্ন এনজিও ও মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। এখন নদীতে মাছ পেলে এই ঋণ শোধ করা যাবে। নিষেধাজ্ঞার সময়টাতে নিবন্ধিত জেলেদের সরকারিভাবে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ পরিমাণে সাহায্য দিয়ে কোনোভাবেই সংসার চালানো সম্ভব নয়।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী বলেন, গত বছরের মতো এ বছরও চাঁদপুরে মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম অত্যন্ত সফল হয়েছে। আমরা রাত-দিন নদীতে টহল দিয়ে মা ইলিশকে ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
