পাবনায় উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবা-ছেলে খুন

আসামিদের গ্রেপ্তার দাবিতে ফুঁসে উঠেছে গ্রামবাসী

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২০, ০২:৩১ এএম

পরিবারের নারী সদস্যকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় প্রকাশ্যে খুন করা হয় পিতা-পুত্রকে। হামলাকারীদের আঘাতে রক্তাক্ত জখম হন পরিবারের ১৫ সদস্য। পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ডাসবেলাই গ্রামের এ ঘটনার ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও প্রধান প্রধান আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ফুঁসে উঠেছেন গ্রামবাসী।

গত ১০ দিন ধরে তারা মানববন্ধন, মিছিল ও সমাবেশ করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছেন।

স্থানীয়রা জানান, চলনবিলের মধ্যে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের নিভৃত গ্রাম ডাসবেলাই। পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী গ্রামটিতে পৌঁছাতে বর্ষায় নৌকা আর শুকনো মৌসুমে হেঁটে পাড়ি দিতে হয় কয়েক মাইল।

ডাসবেলাই গ্রামের কাউছার আহমেদ জানান, সম্প্রতি, গ্রামের মসজিদের পুকুর বেলাল জোরপূর্বক দখলে নিলে বিরোধিতা করেন প্রতিবেশী আব্দুল গফুর। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বেলাল তার অনুসারী মফিদুলকে লেলিয়ে দেন ওই পরিবারের নারী সদস্যদের উত্ত্যক্ত করতে। অতিষ্ঠ হয়ে তারা প্রতিবাদ জানালে, গত ১৪ অক্টোবর ভোরে দলবল নিয়ে গফুরের বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালান বেলাল। সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন গফুরের বড় ভাই তোরাব আলী (৮০) ও ভাতিজা ফজলুল হক (৩৫) । আহত হন পরিবারের ১৫ সদস্য।

হত্যাকা-ের ঘটনায় আব্দুল গফুরের পুত্রবধূ রত্না বেগম বেলাল, মফিদুলসহ ৪০ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় আসামিরা।

নিহত ফজলুল হকের স্ত্রী আয়শা বেগম বলেন, ‘আমার চোখের সামনে হাঁসুয়া, চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আমার স্বামী ও শ^শুরকে হত্যা করেছে। আমি বেলাল, জিয়া, মফিদুলসহ সব আসামির ফাঁসি চাই।’ ভাঙ্গুড়া থানার ওসি মুহম্মদ আনোয়ার হোসেন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ইতিমধ্যে আমরা ৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বেলালসহ অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত