আমেরিকার নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট থেকে মনোনীত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে রেকর্ড মুসলিম প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। প্রথম বারের মতো নতুন পাঁচ মুসলিম বিজয়ী হয়ে ইতিহাস তৈরি করেছেন। মুসলিম নারীরাও রয়েছেন বিজয়ীদের কাতারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম হাফপোস্টের প্রতিবেদনে এমনটা জানা গেছে।
ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্য থেকে মৌরি টার্নার, ডেলাওয়ার থেকে মদিনাহ উইলসন এন্টোন, কলোরাডো থেকে ইমান জোদেহ, উইসকনসিন রাজ্য থেকে সামবা বালদেহ এবং ফ্লোরিডা-সানসাইন অঙ্গরাজ্য থেকে ক্রিস্টোফার বেনজামিন প্রথম মুসলিম হিসেবে নির্বাচিত হন। ডেমোক্র্যাট থেকে মুসলিমদের এ বিজয় নিঃসন্দেহে অবিস্মরণীয় বলে আখ্যা দিয়েছে সে দেশের মুসলিমরা।
বিজয়ী হওয়া প্রসঙ্গে উইলসন এন্টন বলেন, বিজয় ‘সমাজকে এ বার্তা দেয় যে আমরাও এ দেশের অংশ। এখানে আমরা প্রথম প্রজন্ম নাকি আফ্রিকান দাস বংশোদ্ভূত তা বিবেচ্য নয়। আমরা সবাই এই দেশের অংশ।’
গাম্বিয়া বংশোদ্ভূত সামবা বালদেহ বলেন, ‘প্রথম মুসলিম হিসেবে রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হওয়া অবশ্যই উত্তেজনাকর। এমন সুযোগের জন্য আমি অবশ্যই কৃতজ্ঞ। নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি আমি। আমার অঞ্চলের সেবা করার সুযোগ গ্রহণে আমি খুবই আগ্রহী। তবে কেবল আমার নির্বাচনকেন্দ্রিক নয়, বরং মুসলিম, আফ্রিকান ও নানা বর্ণের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।’
ক্রিস্টোফার বেনজামিন বলেন, ‘এই নির্বাচন এক দীর্ঘ ভ্রমণের অংশ। কৃষ্ণাঙ্গদের ঐতিহাসিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ফ্লোরিডা মেমোরিয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ের আমি স্নাতক শিক্ষার্থী থাকাকাল থেকে এর জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকি। সেখানে আমার মেজর বিষয় ছিল রাষ্ট্রবিজ্ঞান। এটি ওই যাত্রার একটি দুর্দান্ত সমাপ্তি। এতে ইতিহাস তৈরি করা এখন প্রায় সম্ভবপর।’
সরকারি পদে প্রার্থী হওয়া আমেরিকান মুসলিমদের প্রশিক্ষণদানকারী একটি পরিষ্ঠানের পরিচালক মুহাম্মদ মিসাউরি বলেন, ‘তারা আমেরিকার মুসলিম নেতাদের নতুন প্রজন্ম। তারা নানা উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা পালন করছেন। মুসলিম নারীকর্মী, রাজনীতিবিদরা আমাদের স্বাস্থ্যসেবা, ফৌজদারি আইন, অভিবাসন নীতি ও আমেরিকার জীবনকে প্রভাবিত করে এমন সব ইস্যুতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় লড়াই করে যাচ্ছেন। এটি আমেরিকা ও পুরো বিশ্বে ইসলামভীতির সহিংস উত্থান প্রতিহত করতে সহায়তা করবে।’
এছাড়াও দ্বিতীয় বারের মতো ফের কংগ্রেস প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনে জিতেছেন ইলহাম ওমর ও রাশিদা তালিব।
