সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধসহ নানা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণঅবস্থান করছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হয়। গণঅবস্থান শেষে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল করে।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘ফ্রান্সের ঘটনাকে পুঁজি করে সাম্প্রদায়িক শক্তি বাংলাদেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করছে। দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাই সেখান থেকে ফিরে আসতেই এ কর্মসূচি।’
এ সময় বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘যারা দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির চেষ্টা করছে তারা সফল হবে না। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় যে শক্তি দিয়ে আমরা সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে মোকাবিলা করেছিলাম, সেই শক্তি দিয়ে তাদেরকে রুখে দেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের উৎখাত করতে এই ষড়যন্ত্র চলছে। প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে রাজাকার-আলবদর মতাদর্শের লোকজন রয়েছে। যে কারণে মাইকিং করে হামলা করার ঘোষণার পরও তা রুখে দেওয়া যায় না।’
এদিকে চট্টগ্রামে ‘সাম্প্রদায়িকতা রুখো, বীর বাঙালি জাগো’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম নগরীর নিউমার্কেট মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণঅবস্থান করেছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে নিউমার্কেট মোড়ে জড়ো হন বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতাকর্মীরা। খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে এই কমূসূচিতে যোগ দেন তারা। সমাবেশে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার অভিমুখে লংমার্চের হুমকি দেওয়া হয়।
সমাবেশে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘আমরা দেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বানানোর চক্রান্ত দেখছি। ধর্ম অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে, মঠমন্দিরে হামলা করা হচ্ছে। শুধু সংখ্যালঘুদের ওপরই নয়, অতিসম্প্রতি আমরা দেখেছি কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে লালমনিরহাটে একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমানকেও হত্যা করে পুড়িয়েছে। আমরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ২০১১ সাল থেকে রাজনৈতিক ও সামাজিক সাম্প্রদায়িকতার শিকার হচ্ছি। ফেইসবুক হ্যাক করে, ভুয়া স্ক্রিনশট তৈরি করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা গুজব রটিয়ে কক্সবাজার-রামু-উখিয়া-টেকনাফ থেকে পাবনার সাঁথিয়া, দিনাজপুরের চিরিরবন্দর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর, রংপুরের গঙ্গাচড়া, ভোলার বোরহানউদ্দিনে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।’
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি পরিমল চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন পরিষদের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. জিনবোধি ভিক্ষু, চট্টগ্রাম উত্তরের সভাপতি রণজিৎ দে, কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক শ্যামল কুমার পালিত, নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিতাই প্রসাদ ঘোষ, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি চন্দন তালুকদার প্রমুখ। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঐক্য পরিষদের নেতারা চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এর আগে গত ৩ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সারা দেশে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
সম্প্রতি ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ও কুমিল্লার মুরাদনগরের সংখ্যালঘু এলাকায় আক্রমণ, অগ্নিসংযোগ, নারী নির্যাতন, শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিলের অপপ্রয়াস, অধ্যাপক কুশল চক্রবর্তীকে হত্যার হুমকি, ধর্মপ্রাণ শহিদুন্নবীকে পিটিয়ে-পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে এবং গ্রেপ্তার ছাত্রছাত্রীদের আশু মুক্তি, শোকজ নোটিস প্রত্যাহার, সংখ্যালঘু সুরক্ষায় আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠনের দাবিতে এই গণঅবস্থান।
