ঝুঁকিতে বানর প্রজাতি ও অন্যান্য

প্রাণী উদ্যান খুলে দেওয়ায় করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২০, ১১:৩৭ পিএম

করোনাভাইরাস পৃথিবীর অসংখ্য মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। একই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বানর জাতীয় প্রাণীদের। এদিকে গত ১ নভেম্বর থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে দেশের জাতীয় উদ্যানগুলো। এতে বানর জাতীয় প্রাণী এবং মানুষের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা।

গবেষকরা বলছেন, বায়োমেডিকেল পরীক্ষাগারে তিন প্রজাতির বানরকে করোনাভাইরাসের সংস্পর্শে এনে দেখা গেছে বানরের শরীরে করোনা আক্রান্ত হওয়ার নানা উপসর্গ। এসব কারণে আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা আইইউসিএনের বন্যপ্রাণীর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ দল ও বানর বিশেষজ্ঞ দল মিলিত হয়ে সতর্ক করে যাচ্ছে বারবার। যেহেতু এখন জাতীয় উদ্যানগুলোতে দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন তাই করোনাভাইরাস মানুষের শরীর থেকে বানরের শরীরে প্রবেশ করার সম্ভাবনা থাকে। একটি বানরের দল সংঘবদ্ধভাবে অনেকটা এলাকা নিয়ে বিচরণ করে। যদি কোনো কারণে একটি বানর আক্রান্ত হয় তাহলে ওই বনের সব বানরসহ অন্যান্য প্রাণীও আক্রান্ত হতে পারে।

শুধু দেশের গবেষক নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও সতর্ক করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা আইইউসিএনের বন্যপ্রাণীর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ দল ও বানর বিশেষজ্ঞ দলও সতর্ক করে বলেছে, বানর জাতীয় প্রাণীরাও এ করোনাভাইরাসের প্রতি সংবেদনশীল।

গবেষণা বলছে, গরিলা কিংবা শিম্পাঞ্জির মতো বড় বানর জাতীয় প্রাণীদের পাশাপাশি আফ্রিকা ও এশিয়া মহাদেশে যেসব বানর প্রজাতির প্রাণী পাওয়া যায় তাদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। কারণ এদের শরীরে অনেকটা মানুষের মতোই অঈঊ২ রিসেপ্টর প্রোটিন আছে যার মাধ্যমে করোনাভাইরাস তাদের শরীরে প্রবেশের সম্ভাবনা থাকে।

মহাবিপন্ন চশমাপরা হনুমান নিয়ে গবেষণা করেছেন তানভির আহমেদ। তার দলের গবেষণায় উঠে এসেছে সিলেটের লাউয়াছড়া-আদমপুরসহ ছয়টি বনে প্রায় ৪০০ চশমাপরা হনুমানের অস্তিত্ব। আইইউসিএনের বানর বিশেষজ্ঞ দলের এ সদস্য জানান, ইতিপূর্বে মানুষ থেকে কিছু ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস বন্য বানর জাতীয় প্রাণীতে ছড়ানোর উদাহরণ রয়েছে। তাই পর্যটক ও বনকর্মীদের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

ঢাবির শিক্ষক, গবেষক মুনতাসির আকাশ বলেন, পর্যটকদের জন্য করোনাকালীন নীতিমালা আরেকটু কঠোর করা উচিত। নির্দিষ্ট জায়গা তাদের জন্য ঠিক করা উচিত। কোনোভাবেই যেন কেউ অতি উৎসাহী হয়ে পশুদের খাবার দেওয়ার বা ধরার চেষ্টা না করে।

আইইউসিএনের বন্যপ্রাণীর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ দলের মতে, এ সময়ে মানুষের সঙ্গে বানর জাতীয় প্রাণীগুলোর সব ধরনের যোগাযোগ বা সংস্পর্শ বর্জন করার পাশাপাশি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা উচিত।

বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো বলেন, বন বিভাগ থেকে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রতিটি জাতীয় উদ্যান ও বনে দিয়েছি।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে প্রকাশিত আইইউসিএনের লাল তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট ১০ প্রজাতির বানর জাতীয় প্রাণীর ৯ প্রজাতিই মানবসৃষ্ট কারণে দেশে বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে। যদি কোনোভাবে মানুষ থেকে বানর জাতীয় প্রাণীতে করোনাভাইরাসের মতো মহামারী ছড়িয়ে পড়ে নিঃসন্দেহে তা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত