চাল সরবরাহের চুক্তিভঙ্গ

বগুড়ায় কালো তালিকাভুক্ত হচ্ছে ৫ শতাধিক চালকল

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২০, ০৩:২৩ এএম

বগুড়ায় সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ না করার কারণে ৫ শতাধিক মিলকে কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে খাদ্য বিভাগ।

গত বোরো মৌসুমে সরকারের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক চাল সরবরাহ না করা এবং যেসব মিলমালিক সরকারি খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহ করার চুক্তি করেনি তাদের বিরুদ্ধে এ শাস্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বগুড়া জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, গত বোরো মৌসুমে জেলার ১২টি উপজেলায় মোট ৭১ হাজার ৮৮৪ টন চাল কেনার জন্য ১ হাজার ৯৬২ চালকল মালিকের মধ্যে ১ হাজার ৫৫৬ জন খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করেন। এ ছাড়া লোকসানের আশঙ্কায় জেলার বাকি ৪০২ জন মিলমালিক চাল দিতে সরকারের সঙ্গে কোনো চুক্তি করেননি।

সরকারি গুদামে সেদ্ধ চালের দাম ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাজারে চালের দাম বেশি থাকায় চুক্তি করেও লোকসানের কারণ দেখিয়ে চাল সরবরাহ করেননি ৩২৩ মিলমালিক এবং আংশিক সরবরাহ করেছেন ২৪৮ জন। এতে জেলায় দুই দফায় (১ মে থেকে ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) চাল সংগ্রহ হয়েছে ৪৩ হাজার ৯৬৭ টন এবং কৃষকের কাছ থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে ধান সংগ্রহ হয়েছে ৩৪ হাজার ৮৬৬ টনের স্থলে ২২ হাজার ৬৩৪ টন।

খাদ্য বিভাগ চাল সরবরাহে মিলমালিকদের বারবার তাগাদা দিলেও তারা সাড়া দেননি। তাই সরকারি চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে ওইসব মিলমালিককে কালো তালিকাভুক্ত করছে খাদ্য বিভাগ। এরমধ্যে চুক্তি না করা মিলমালিকদের কাছ থেকে আগামী দুই মৌসুম এবং চুক্তি করেও নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল সরবরাহ না করা মিলমালিকদের কাছ থেকে এক মৌসুম সরকার কোনো চাল কিনবে না মর্মে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এ কে এম সাইফুল ইসলাম এসব মিলমালিকের বিরুদ্ধে শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাজারদর জানার পরই মিলমালিকরা চুক্তি করেছিলেন। কিন্তু তারা চুক্তি মোতাবেক চাল সরবরাহ না করায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ এনে কালো তালিকার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এবার এই শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে আগামী মৌসুম থেকে চুক্তি মোতাবেক চাল পাওয়া যাবে বলে মনে করছে খাদ্য বিভাগ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত