পাবনায় আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগ

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২০, ১০:৪৯ পিএম

ঘুষ নিয়ে দেওয়া নিয়োগের অভিযোগ ধামাচাপা দিতে পাবনায় কয়েকজন শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, দুলাই ইউপি চেয়াম্যান ও চিনাখরা স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম শাহজাহানের বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি উপজেলার চিনাখরা স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত সপ্তাহে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সাবেক বিদ্যোৎসাহী সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, সিরাজুল ইসলাম শাহজাহান পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হওয়ার পর থেকেই অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতায় প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। সম্প্রতি ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আইসিটি বিষয়ে প্রভাষক পদে সোহেল রানা ও জীববিজ্ঞান বিষয়ে প্রদর্শক পদে সোলায়মান কবির নামে দুজনকে নিয়োগ দেন তিনি।

তিনি জানান, সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতিতে কলেজ বন্ধ থাকার সুযোগে সভাপতি স্থানীয় একটি পত্রিকার সঙ্গে যোগসাজশে ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর তারিখ দেখিয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। সেই বিজ্ঞপ্তিতে মুজিববর্ষের লোগো থাকায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। ওই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই সভাপতি ঘুষের বিনিময়ে দুজনকে চলতি বছরের ২ মে নিয়োগ দিলে তিনি রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দেন। শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিষয়টি তদন্ত করেন।

ঘটনা ধামাচাপা দিতে সভাপতি পুনঃতদন্তের আবেদন করতে উদ্যোগ নেন। সেই আবেদনে সব শিক্ষকের সই সংযুক্ত করতে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পরও গত ২৬ অক্টোবর শিক্ষকদের কলেজে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক সাদা কাগজে সই দিতে বলেন। তাতে রাজি না হলে অনুসারীদের দিয়ে কয়েকজন শিক্ষককে মারধর করে সাদা কাগজে সই করতে বাধ্য করেন। বিষয়টি তারা তাৎক্ষণিক জানতে পারলেও ভুক্তভোগী শিক্ষকরা ভয়ে সভাপতির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিতে রাজি হননি। গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় নিন্দার ঝড় ওঠে।

প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক আবদুল মালেক অভিযোগ করেন, সভাপতির স্বেচ্ছাচারিতা ও শিক্ষকদের মারধরের ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। শুধু ‘নিয়োগ বাণিজ্য’ই নয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কলেজ উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা লুট, তহবিলের টাকা তুলে ব্যয় করেন সভাপতি।

সুজানগর ইউএনও রওশন আলী বলেন, ‘তদন্তে নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ মিলেছে। তদন্ত প্রতিবেদনটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম শাহজাহান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমি কোনো হস্তক্ষেপ করিনি। আর ঘুষ নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

সুজানগর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহিন বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আমিও পেয়েছি। শাহজাহান সাহেবের মতো একজন নেতার এমন কা-ে আমরা বিব্রত ও লজ্জিত। তবে যারা দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত