বরিশালের সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা দেওয়া এবং কারখানা চালুর দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।
সোমবার এক ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পর্যটকরা। পরে মিল খুলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে দুপুর ১২টায় মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন শ্রমিক-কমচারীরা।
সোমবার সকাল ১০টায় নগরীর রূপাতলী এলাকায় সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শ্রমিক-কর্মচারীরা সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলের গেটে অবস্থান এবং সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মিজানুর রহমান, জেলা বাসদ সদস্য সচিব ডা. মনিষা চক্রবর্তী, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতা এ কে আজাদ, নৌযান শ্রেমিক ফেডারেশন নেতা আবুল হাসেম, সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিল শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের সংগঠক হারুন শরীফ, ফরহাদ হোসেন প্রমুখ।
বেলা ১১টায় শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং মিল খুলে দেয়ার দাবিতে মিলের সামনে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।
এ সময় তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেন বরিশালের ৮টি শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মহাসড়ক অবরোধকালে তারা শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং মিল খুলে দেয়ার দাবি জানান।
প্রায় ১ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে মহাসড়কের দুই প্রান্তে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এ সময় কুয়াকাটাগামী বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রী ও পর্যটকরা বিড়ম্বনার শিকার হন।
পরে কোতোয়ালি থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম মিলের মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে চলতি মাসের মধ্যে ধীরে ধীরে মিল খুলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে দুপুর ১২টায় মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন শ্রমিক-কমচারীরা।
এদিকে শ্রমিকদের অবস্থান এবং অবরোধ কর্মসূচি ঘিরে যে কোনো ধরনের অরাজকতা প্রতিরোধে সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল বলে জানান ওসি মো. নুরুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, করোনার শুরুতে গত ৮ মাস আগে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনভাতা বকেয়া রেখে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিল বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
এরপর থেকে ওই মিলের শ্রমিকরা তাদের বকেয়া বেতন-ভাতা এবং মিল চালুর দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।
