কেন আমার বাবার কথা বলে আমাকে টেনে নামানোর চিন্তা: এলিট

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২০, ০৫:১২ পিএম

কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য পদ বাতিল চেয়ে মীরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের বিবৃতি ও ফেইসবুকে সমালোচনার জবাব দিয়েছেন নিয়াজ মোর্শেদ এলিট। তিনি সদ্যঘোষিত যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

সমালোচনার জবাবে সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নিয়াজ মোর্শেদ এলিট বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে গিয়ে আমি পারিবারিক ব্যবসা থেকে বের হয়েছি। আমার বাবা অন্য রাজনীতি করে বলে তার সঙ্গেও আমার সম্পর্ক ছিন্ন করতে হয়েছে। আমার নিজস্ব একটা পরিচয় আছে। দলের জন্য কাজ করছি। ক্রীড়াসহ নানা সামাজিক সংগঠনে জড়িত দীর্ঘদিন ধরে। এরপরও কেন আমার বাবার কথা বলে আমাকে টেনে নামানোর চিন্তা?’

তিনি বলেন, ‘এসব গতবার আন্তর্জাতিক উপকমিটির সদস্য পদ পাওয়ার সময়ও করা হয়েছিল। নেতৃবৃন্দ সব অবগত আছেন। আমি হলফ করে বলছি, আমি কোনো দিন আওয়ামী লীগের বাইরে যদি অন্য দল করেছি একদিনের জন্যও, সেটা কেউ প্রমাণ করতে পারে, তাহলে যুবলীগের পদ থেকে পদত্যাগ করব। আমার বিরুদ্ধে যেসব অপপ্রচার করা হচ্ছে ভিত্তিহীন মনগড়া ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত।’

এলিট বিবৃতিতে আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু ও জননেত্রীকে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বিশেষ ও পরিবার ছাড়া অন্যরা ভালোবাসতে পারবে না তা কিন্তু নয়। আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি, জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে উনার একজন কর্মী হিসেবে কাজ করেছি, সামনেও করে যাব। রাজনীতি করে আমি এক টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেছি তা কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। আমি দেশের সব নিয়মকানুন মেনে ব্যবসা করি। রাজনীতি করি বঙ্গবন্ধু ও জননেত্রীকে ভালোবাসে, আর দেশের মানুষের পাশে থাকার ক্ষুদ্র চেষ্টা থেকেই। আল্লাহ কাউকে সম্মান দিলে সেখানে হিংসুক লোকজন কি তা কেড়ে নিতে পারে? মীরসরাই আমার জন্মস্থান সেটা তো অপরাধ হতে পারে না!’

তরুণ এ রাজনীতিক আরো বলেন, ‘পদ-পদবি প্রত্যেক কর্মীর জন্য অলংকার। জননেত্রী শেখ হাসিনা ও যুবলীগ সভাপতি পরশ ভাই আমাকে তাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন তাই কৃতজ্ঞ। কিন্তু পদে না রাখলেও আমি কাজ করতাম। সুতরাং একটা সদস্য পদ নিয়ে কারো এত বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। আমার পিতা অন্য দল করে সেটা নিয়ে আমাকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা হচ্ছে। উনিও তো আওয়ামী লীগই করতেন। উনি কেন দলত্যাগ করলেন, সেটারও কারণ বের করা দরকার। কেন তিনি আওয়ামী লীগে থাকতে পারেননি। এ রকম আওয়ামী লীগের মতো গণমানুষের একটি দলকে যদি একটি পরিবার ও গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় তাহলে তো সেটা দলের জন্য কখনো মঙ্গল বয়ে আনবে না’।

এলিট বলেন, ‘রাজনীতিতে নানা মত থাকবে, তবে আদর্শের ঠিকানা একটাই, একজনই। আমাদের আদর্শিক  নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার আদর্শ বাস্তবায়নে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষীয় যে কোনো নাগরিকই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে পারে। আমিও স্কুল জীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলাম। কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতি করার পর গতবার আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক উপকমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। আমার কাজের মূল্যায়ন করে যুবলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারি আমাকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দিয়েছেন। আমিও তাদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করব।’

এলিট চট্টগ্রাম খুলশী ক্লাব লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার সভাপতি, জুনিয়র চেম্বার চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন চট্টগ্রামের চিফ কো-অর্ডিনেটর, ব্রাদার্স ইউনিয়ন (ঢাকা ও চট্টগ্রাম) ক্রিকেট কমিটির সভাপতি, একুশে মেলা পরিষদের মহাসচিব, কালের কণ্ঠ শুভ সংঘের প্রধান উপদেষ্টা, চট্টগ্রাম বোট ক্লাবের সদস্য ও শাহীন গলফ অ্যান্ড কান্ট্রি ক্লাবের আজীবন সদস্য। সাম্প্রতিক সময়ে মানুষকে লাল ভালোবাসা প্রদানের কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন।

উল্লেখ্য, রবিবার মীরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগ যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিয়াজ মোর্শেদ এলিটকে পদ দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি দেয়। নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের বাবা শিল্পপতি মনিরুল ইসলাম ইউসুফ। তিনি জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতা। ইউসুফ ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মীরসরাই থেকে বিএনপির মনোনয়ন পান। তখন এলিট ফেইসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তার বাবাকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান। যা ফেইসবুকে ভাইরাল হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত