উগান্ডায় জনপ্রিয় পপ গায়ক থেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা হয়ে উঠা ববি ওয়াইনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। এ ঘটনার প্রতিবাদে তার সমর্থকদের সহিংস বিক্ষোভ দেয়।
ডয়চে ভেলে জানায়, জানুয়ারিতে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছিলেন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ববি ওয়াইন। এ সময় করোনা বিধিনিষেধ ভঙ্গের অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
ওয়াইনকে গ্রেপ্তার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে, যাদের অধিকাংশই তরুণ বলে জানা গেছে।
রাজধানী কাম্পালা ও অন্য শহরগুলোতে ওয়াইনের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। রাস্তায় আগুন ধরে দেয় বিক্ষোভকারীরা, গাড়ি আটকে দিয়ে অবরোধ শুরু করে।
একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের লড়াই শুরু হয়। স্থানীয় টিভি চ্যানেলে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে রাস্তায় নামে সেনা ও পুলিশ। তারা কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটায় এবং গুলি চালায়।
রেড ক্রস জানায়, গুলিবিদ্ধ হয়ে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। গুলিতে আহত আরও ১১ জনকে তারা চিকিৎসা দেয়।
ভয়েস আমেরিকার এক খবরে বলা হয়, নিহতের মধ্যে একজন নারী আছেন। মাথায় গুলি লেগে তার মৃত্যু হয়েছে।
এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, পূর্ব উগান্ডায় প্রচার করার সময় ওয়াইন করোনা-বিধি ভেঙেছেন। তাই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উগান্ডার রাজনীতিকেরা করোনা বিধি ভেঙে মানুষকে মিছিল করতে বলছেন, জনসভা করছেন, এর ফলে করোনা ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ পুলিশের।
দেশটিতে ৩৪ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন প্রেসিডেন্ট ইয়োভেরি কাগুতা মুসেভেনি। আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য সংবিধান পালটে ফেলেন তিনি। বিরোধী দলদের জন্য রাজনীতিও কঠিন করে তুলেছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গণতন্ত্রপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠে ববি ওয়াইন। এ নামে পরিচিত হলেও তার আসল নাম রবার্ট কিয়াগুলানই সেসেনটামু।
পপ স্টার হিসেবে খ্যাত তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা নিয়ে দেশটির এমপিও হয়েছেন। এখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। মনোনয়নপত্র পেশ করার পরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নির্বাচনে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে ওয়াইনকে। পপ স্টার হওয়ার সুবাদে তিনি যুবকদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে গ্রাম ও শহরের নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের কাছেও আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন তিনি।
