জঙ্গি ভাইদের সহায়তার কথা স্বীকার যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি দম্পতির

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২০, ০৬:৩৮ পিএম

জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসে যোগ দেওয়া দুই ভাইকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে স্বীকার করেছেন প্রবাসী এক বাংলাদেশি দম্পতি।

তারা হলেন শহিদুল গাফ্ফার বাবু (৪০) ও তার স্ত্রী নাবিলা খান (৩৫)। গত কয়েক বছর ধরে তারা পেনসিলভেইনিয়ার আপারডারবিতে বসবাস করে আসছিলেন।

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগে তাদের বুধবার ফিলাডেলফিয়ার ফেডারেল কোর্টে হাজির করা হলে বিচারক জশুয়া ডি উলসনের সামনে তারা দোষ স্বীকার করেন।

‘দেশি ভিলেজ’,‘ নিউ দেশি ভিলেজ’ নামক রেস্টুরেন্ট ব্যবসা রয়েছে এই দম্পতির। তারা সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং পারিবারিক অনুষ্ঠানে ক্যাটারিংয়ের কাজও করেন। বগুড়ার সন্তান বাবু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তবে তার স্ত্রী নাবিলা এখনো গ্রীণকার্ডধারী।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ অপরাধে তাদের পাঁচ বছরের জেল এবং আড়াই লাখ ডলার জরিমানা হতে পারে। জেল খেটে মুক্তি পাওয়ার পর আরো তিন বছর তাদের বিশেষ নজরদারিতে থাকতে হবে।

এই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ, নাবিলার দুই ভাই জেকে এবং আইকে (পুরো নাম প্রকাশ না করে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ তাদের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ প্রকাশ করেছে) সিরিয়ায় আইএসে যোগ দেয়। গত কয়েক বছরে আইএসে যোগ দেয়া দুই ভাইকে তারা ‘বিপুল পরিমাণ’ অর্থ পাঠিয়েছেন।

তাদের মধ্যে আইকে গতবছর সিরিয়ায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত হন।

মামলার নথিতে বলা হয়, নাবিলার বড় ভাই জেকে বাংলাদেশ থেকে সিরিয়ায় যান ২০১৫ সালে। সিরিয়ায় যাওয়ার খরচ যোগাতে নাবিলা তার কিছু সোনার গয়না বিক্রি করে দিতে বলেছিলেন তার বোনকে, যিনি বাংলাদেশেই থাকেন।

ভাইকে বিদায় জানাতে ওই বছর ফেব্রুয়ারি নাবিলা বাংলাদেশেও গিয়েছিলেন। আর বাবু ফিলাডেলফিয়া থেকে তার শাশুড়িকে লিখেছিলেন, তার ছেলে ‘মহান দায়িত্ব’ পালনে সিরিয়া যাচ্ছে, সেজন্যে তার ‘গর্ব করা উচিত’।

নাবিলার আরেক ভাই আইকে ২০১৩ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর ২০১৪ সালের জুন থেকে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি বোন-দুলাভাইয়ের সঙ্গেই ছিলেন।

এরপর আইকে যখন বাংলাদেশে ফিরে যান, নাবিলা তখনও দেশেই ছিলেন। বাবু সে সময় বেশ কিছু টাকা পাঠান দেশে, যা আইকের সিরিয়া যাওয়ার জন্য ব্যয় করা হয়।

ইউএস অ্যাটর্নি উইলিয়াম এম ম্যাকসোয়াইন বলেন, নাবিলা খানের দুই ভাইকে সিরিয়ায় গিয়ে আইএসে যোগ দিয়ে আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হতে উৎসাহ দিয়েছেন এই দম্পতি।

সূত্র: ডেইলি মেইল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত