অস্ত্রের খোঁজে জাহাজে জার্মানির তল্লাশি, ক্ষুব্ধ তুরস্ক

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২০, ১২:৩০ পিএম

লিবিয়াগামী তুরস্কের একটি পণ্যবাহী জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে জার্মানি। জাহাজটিতে অস্ত্র আছে কি না, সেটাই খুঁজে দেখা হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তুরস্ক।

ডয়চে ভেলে জানায়, জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লিবিয়ায় অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে কী না সেটি খতিয়ে দেখতে জাহাজটিতে তল্লাশি চালানো হয় বলে জার্মানি দাবি করে। 

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ‘জার্মানি যা করেছে, তা পুরোপুরি বেআইনি। এভাবে তল্লাশি চালানোর কোনো অধিকার তাদের নেই। জোর করে তারা এই তল্লাশি চালিয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করছি।’

আঙ্কারায় জার্মানি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইতালির রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এই ‘বেআইনি কাজের’ নিন্দা করেছে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

জার্মানির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তুরস্কের জাহাজের নাম হলো রোসালিন-এ। জার্মান হেলিকপ্টার থেকে জাহাজে তল্লাশির বার্তা পাঠানো হয়। জাহাজ থেকে কোনো জবাব আসেনি। তারপর হেলিকপ্টার থেকে নেমে তল্লাশি চালানো হয়।

তবে রোমের ইরিনি মিশন কমান্ড থেকে এই তল্লাশির নির্দেশ দেয়া হয়। লিবিয়ায় অস্ত্র সরবরাহ হচ্ছে কী না নজর রাখে মিশনটি।

তুরস্ক অবশ্য বার্তা পাঠায়, তারা তল্লাশির অনুমতি দিচ্ছে না। তখন তল্লাশি থামিয়ে দেয়া হয়। যেটুকু তল্লাশি অভিযান চলেছে, তাতে কোনো অস্ত্রের সন্ধান মেলেনি। তল্লাশিতে জাহাজের নাবিকরাও সহযোগিতা করেছেন।

লিবিয়ায় ২০১১ সালে গাদ্দাফির শাসনের অবসানের পরেই দেশটিতে অস্ত্র পাঠানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করে জাতিসংঘ। লিবিয়ায় এখন জাতিসংঘের স্বীকৃত ত্রিপোলি সরকারের সেনার সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠী খলিফা হাফতার বাহিনীর লড়াই চলছে।

হাফতারকে সমর্থন করে রাশিয়া, মিসর, জর্ডান ও আরব আমিরাত। তুরস্ক আছে ত্রিপোলি সরকারের পক্ষে। তারা আগে সেনা ও অস্ত্র পাঠিয়েছে। এমনকি জার্মানি ইরিনি মিশনে যোগ দেয়ায় তুরস্কের অভিযোগ ছিল, তারা একেবারেই নিরপেক্ষ নয়। তাদের দাবি, এই অস্ত্র নিষেধাজ্ঞায় হাফতারের লাভ হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত